• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
Headline
মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিকেলে ফের অভিযান বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কাণ্ডারীও ভুক্তভোগী হচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ২০২৬ পালন। ৩৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদের পদোন্নতি অগ্রগতি কতদূর? ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

মৌলভীবাজারে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লোডশেডিংয়ে ক্ষতির মুখে চা শিল্প

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি / ৪৩ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ে চা শিল্পে দেখা দিয়েছে মারাত্মক সংকট। দিনে গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে স্বাভাবিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশে। অর্থাৎ উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়। চলতি বছর দেশের ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। একই সঙ্গে চায়ের গুণগত মান কমে রপ্তানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, দেশের চা উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা মৌলভীবাজার। জেলার ৯৩টি চা-বাগান থেকে উৎপাদিত হয় দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ চা। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন বাগান থেকে কারখানায় আসছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা পাতা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পাতা প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভরা মৌসুমে যখন চায়ের উৎপাদন সর্বোচ্চ থাকার কথা, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে কারখানা চালানো। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বক্ষণিক উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, এতে বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে এবং চায়ের সার্বিক উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে ব্যয় বহুগুণ।শুধু বাগান মালিক বা কারখানা কর্তৃপক্ষই নয়, বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চা শ্রমিকরাও। তাদের অভিযোগ, দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না।
চা বাগানের ফ্যাক্টরি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের চা শিল্প এবার হুমকির মুখে। এভাবে যদি লোডশেডিং অনবরত হতে থাকে তাহলে আমাদের ক্ষতির সম্ভাবনা চা শিল্পের ক্ষতির সম্ভাবনা হবে। লোডশেডিং মানে কারেন্টটা যাওয়ার পরপরই ধরেন দুই ঘণ্টা নাই। যত সময় থাকে এর চেয়ে বেশি যায়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষিতে আমাদের যে সমস্যাটা হচ্ছে, সে সমস্যাটা আমরা সর্বদাই ফেস করতেছি হচ্ছে না থাকলে কাজ করতে অবশ্যই বিরক্ত হয়।
মৌলভীবাজার চা বাগানের ম্যানজাররা বলেন, মোহাম্মদ আলী বলেন, চা বাগান থেকে শোনা যায় যে ওগুলোতে প্রচণ্ড লোডশেডিং হয়। আমাদেরও হয়। আমাদের সন্ধ্যার পরে একটু বেশি হয়। আমাদের ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাঁচা পাতা নষ্ট ও পচে যাচ্ছে, ফলে চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ দেওরাছড়া চা বাগান ম্যানেজার আব্দুল আল রুমেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিনলে টি কোম্পানি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসীন আহমেদ চৌধুরী জানান, চা কাঁচা পাতা থেকে উৎপাদিত হয় এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মাঝপথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে সরাসরি চায়ের গুণগত মানে প্রভাব পড়ে। বর্তমানে দেশব্যাপী অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে চায়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ১০০ মেগাওয়াট।গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটছে। তবে খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান।
বাংলাদেশ চা বোডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ডের কর্মকর্তারা বিদ্যুৎসহ বাগানের উৎপাদনসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category