তরুণদের উদ্দেশে ফাহিম বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার কাজ বড় কোনো আয়োজন থেকেই শুরু হতে হবে—এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিজের উদ্যোগেই এই পদযাত্রা করছি। পথে বন্ধু ও সুহৃদদের বাড়িতে রাতযাপন করেছি।’
ফাহিমের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ক্রমেই হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়মিত হাঁটা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাই তার পদযাত্রার মূল লক্ষ্য।
ফাহিমের বন্ধু মুহয়ি শারদ তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছে ফাহিম। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণী ফাহিম। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সাহায্য করার মধ্যে ফাহিম জীবনের সর্বোচ্চ আনন্দ পায়। যারা ফাহিমকে চেনে, তারা সম্ভবত সবাই একবাক্যে এই কথার সঙ্গে একমত হবে।’
ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় শারদ রো লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন কারণে ফাহিমের সঙ্গে তার ‘অম্ল-মধুর’ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি টেকনাফ-তেঁতুলিয়া হাঁটার বিষয়েও তিনি ফাহিমের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না।
তবে তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ পরিবেশ রক্ষায় আমরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিতে ব্যস্ত, তখন পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে ফাহিমের এই অনন্য ও সাহসী উদ্যোগের অন্তত প্রশংসা জানানো নাগরিক হিসেবে নিজের মৌলিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে।’
শারদ ফাহিমের সুস্থতা কামনা করে বলেন, ‘ফাহিম সুস্থভাবে ফিরে আসুক। পরিবেশ রক্ষায় তার এই বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।’