• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

বছরে কোটি টাকার ভেজাল ওষুধের কারবার, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর / ২৫ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

নাটোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পার আটঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পার আটঘরিয়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (২৮), একই গ্রামের খবির হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৮) এবং আওরাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৪)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া খোকন মিয়া প্রায় এক বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও অনলাইনে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ফেসবুকে ‘এসকে নিউট্রিশন’ এবং ‘অর্গানিক বায়ো কেয়ার সলিউশন’ নামে দুটি পেজ খুলে বিভিন্ন রোগের ওষুধের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিতেন। এসব পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ারযোগে ওষুধ সরবরাহ করে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয় করতেন।
তিনি আরও জানান, চক্রটি যৌন উত্তেজক ওষুধসহ প্রায় ৪০ ধরনের বিভিন্ন রোগের ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করত। কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব ওষুধ উৎপাদন করা হতো।


গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ কারখানাটি থেকে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল তৈরির মেশিন (এনজিপি-১ ২০০), পাঁচটি ট্যাবলেট প্রেস মেশিন, ব্লেন্ডিং ও ড্রায়ার মেশিনসহ ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি, একটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া কয়েকশ কেজি যৌন উত্তেজক ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, বিভিন্ন রাসায়নিক কাঁচামাল এবং বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত অ্যালার্জি ও চর্মরোগের নকল মলম ও ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমোদনহীনভাবে ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “এসব ভেজাল ওষুধ সাময়িকভাবে উপকার দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাটোরের ‘ওষুধি গ্রাম’-এর সুনামকে ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চালিয়ে আসছিল। এদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি সাধারণ মানুষকে অনলাইনে বা ফেসবুকের বিজ্ঞাপন দেখে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিবন্ধিত ও লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ কেনার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহা, জেলা ডিবির ওসি নজরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category