• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই, সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৮ Time View
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন,থেকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারি মালিকানাতেই রাখা হবে।

আজ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক— এই চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান উন্নত করতে আরো বেশি মোবাইল টাওয়ার প্রয়োজন, যার জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ দরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘টেলিটককে বাজারে রাখতেই হবে। এটি সরকারি মালিকানাতেই থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৭ দিন বা ১৫ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। তবে অপারেটররা তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক নীতির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, কলড্রপ সমস্যা নিয়েও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অপারেটরদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে এবং রেমিট্যান্স প্রেরণ আরো সহজ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সেসব স্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে টেলিটকসহ অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে এবং এর অধিকাংশই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। একসঙ্গে সব ডাকঘর সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং ও অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক পেশায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে, যাতে তারা ক্ষতিকর অনলাইন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে।

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ৫জি সেবা সম্প্রসারণে মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিনিরপেক্ষ (টেকনোলজি-নিউট্রাল) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৫জি চালুর জন্য ২.৩ গিগাহার্জ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্রও প্রদান করা হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category