মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তালতো বোনের সাথে প্রেম গোপনে বিয়ে করার জেরে মো. সুফিয়ান আহমদ (২৪) নামে এক যুবকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার এ ব্যাপারে নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সকালে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন।বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
নিহত সুফিয়ান আহমদ বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,তার চাচাতো ভাইয়ের চাচাতো শালিকা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাঙাউটি গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে লিজা বেগমের (২২) সঙ্গে সুফিয়ান আহমদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তারা এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি উভয় পরিবারের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং লিজা বেগম বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সম্প্রতি মেয়ের পরিবারের সদস্যরা গোপন বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। গত ২৭ জুন রাতে লিজাকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুফিয়ানকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের পর জোর করে বিষ পান করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে অসুস্থ অবস্থায় সুফিয়ানকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সিলেট কোতোয়ালি থানার এসআই বিপুল দাস জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ময়নাতদন্ত করা হয়।
নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার ১ দিন পূর্বে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এব্যপারে তিনি বড়লেখা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
এব্যাপারে অভিযোক্ত পরিবারের মেয়ের মামা আব্দুর রহমান জানান ছেলেটি আমার বোনের বাড়ি এসে বিষ প্রান করে।
এব্যাপারে বড়লেখা থানার ওসি৷ তদন্ত মোঃ ওবায়দুল হক জানান নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন মামলা করেছেন তদন্তের কাজ চলছে।