আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপির কোলে নিহত কৃষক দল নেতা সোহেল রানার ছেলে। ছবি : বর্তমান বাংলাদেশ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় কৃষক দল নেতা সোহেল রানা (৩৩) হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও সুষ্ঠু বিচারে আশ্বাস দিয়েছেন আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি।
সোমবার (৬ জুলাই) সোহেলের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকার্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এ সময় নিহত বিএনপি কর্মী সোহেলের পাঁচ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এমপি ওয়াহিদ বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডই কোনোভাবে কাম্য নয়। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন মঙ্গলবার বিকেলে চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তে নামেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন, চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়ার মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৪০), মো. হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩), মনিরুল ইসলাম (২৪)।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এজাহারনামীয় বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।