• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শ্রীমঙ্গলে ফরম পূরণের টাকা দিয়েও এডমিট কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ ৯ শিক্ষার্থীর ইউএনর হস্তক্ষেপে পরীক্ষার সুযোগ হলো ৮ শিক্ষার্থীর

শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার প্রতিনিধি / ৫৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা দেওয়ার পরও এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) না পাওয়ায় ্অভিযোগে পরীক্ষা দিতে এসে দুর্ভোগে পড়ের পরীক্ষার্থীরা। জানা যায়, কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের ৯জন শিক্ষার্থী সবার মতো ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা এডমিট কার্ডের জন্য রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি। কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড সরবরাহ করতে আজ-কাল তারিখ করেও পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দিতে পারেনি। সর্বশেষ গতকালও এসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারেন, তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন, কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা শারমিন আক্তার,
মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া এবং শ্রাবন্তী শীল। এর মধ্যে সুমাইয়া আক্তার নামে অনিয়মিত এক শিক্ষার্থীরও এডমিট কার্ড আসেনি। জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র ছাড়া তারা শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের আটকে দেন। এসময় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে হইচই শুরু করেন। খবর পেয়ে ইউএনও কলেজে যান। তিনি সবকিছু শুনে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান। একইসঙ্গে মোবাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরীক্ষার্থী তানিয়া অক্তার বলেন, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের টাকা আমরা গত রমজান মাসেই কলেজে জমা দিয়েছি। বাবরবার কলেজে যোগাযোগ করার পর এখন পর্যন্ত এডমিট কার্ড পাইনি। পরীক্সঅ শুরুরর দেড় ঘন্টা পর ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা প্রায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। শ্রাবন্তী শীল বলেন, এডমিট কার্ড না পাওয়ায় আমরা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেই। কিন্তু আমাদের মাত্র ২০ মিনিটি সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা লেখতে পারিনি। আমরাদের পরীক্ষায় ফেইল করলে এর দায়ভার কে নেবে? দীপা কাহার বলেন, কয়েক মাস আগে আমরা কলেজে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দেই। এডমিট কার্ডের জন্য কলেজে কয়েকদিন গিয়েছি। শুধু তারিখ করা হয়েছিল আজ-কাল, সকাল-বিকেলে দেয়া হবে। সর্বশেষ বলা হয় পরীক্ষার দিন ৮টায় দেয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার দিনও আমরা পাইনি। এঘটনায় আমরা শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং আমরা মানসিকভাবে প্রচÐ বিপর্যস্ত। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অভিযুক্ত অনিত দেব এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, যে ৮ জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আইছে না, আমার নলেজে আছিল না। আজকে বিষয়টি জেনেছি তারা সবাই কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেবের কাছে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিল। পরে ইউএনও এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ফরম ফিলাপের টাকা দেয়ার পরও এডমিট কার্ড না পাওয়ার দায় কার প্রশ্নে তিনি বলেন, দায় কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেব এবং যেহেতু আমি দায়িত্বে আছি আমারও। তবে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে আলাপ হয়েছে দ্রæত সময়ের মধ্যে তাদের এডমির্ট কার্ড পৌছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে
কলেজের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ৯জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আসেনি। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা আমি কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। সে অনুযায়ী বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসনসহ সবার সম্মিরিথ প্রচেষ্টায় তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। এ ঘটনায় দায়িদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে প্রশাসনের দ্রæত উদ্যোগে ৯শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ৯ শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদেও পরিবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category