• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি বর্তমান বাংলাদেশ / ১৩৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

মৌলভীবাজারে রাস্তা বন্ধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ৮০ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধ ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে আসামি
মৌলভীবাজার থেকে, মনজু বিজয় চৌধুরী।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সূর্য্যপাশা গ্রামে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ একটি মহল বন্ধ করে দেওয়ায় বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন অতিবৃদ্ধ আব্দুল মিয়া (৮০) ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী ছেলে ইমরান মিয়া। আর এই রাস্তা বন্ধের জের ধরে সৃষ্ট সংঘর্ষের মামলার আসামি অতিবৃদ্ধ আব্দুল মিয়া (৮০) ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী ছেলে ইমরান মিয়া। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুর্য্যপাশা গ্রামে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আব্দুল মিয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেন প্রতিবেশী মুমিন মিয়া। এ নিয়ে গ্রাম্য পঞ্চায়েত একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়ননি। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরাজ করে চরম উত্তেজনা। ১৬ জুন বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষের ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও মুমিন মিয়ার পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে অতিবৃদ্ধ আব্দুল মিয়াকে ১ নম্বর আসামি করে এফআইআর করে মৌলভীবাজার মডেল থানা। একই সঙ্গে তার মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী ছেলে ইমরান মিয়াকেও মামলায় আসামি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
এলাকাবাসী জানান, সূর্য্যপাশা গ্রামের আব্দুর মিয়া দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। ওই সময়ে তার পরিবারের সদস্যরা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তিনি দেশে ফিরে গ্রামের বাড়িতে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু প্রতিবেশী মুমিন মিয়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে আব্দুল মিয়ার পরিবারে মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মুমিন মিয়া আব্দুল মিয়ার বাড়ির উঠান ব্যবহার করে চলাচল করলেও আব্দুল মিয়ার পরিবারকে তাদের জমির ওপর দিয়ে তৈরী রাস্তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। এমনকি রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় অতিবৃদ্ধ আব্দুল মিয়া ও তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে কার্যত বাড়ির ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, শারীরিকভাবে অক্ষম ও একজন অতিবৃদ্ধ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী ছেলেকে কীভাবে সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হলো। তারা বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ ব্যবস্থাদ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এব্যাপারে মুমিন মিয়া বলেন, আমরা দুই পরিবার একি বাড়িতে বসবাস করি। আমার জমির উপর দিয়ে রাস্তা করেছি। কিন্তু তাদের জমির অংশের উপর দিয়ে রাস্তার বাকী অংশ তৈরী করতে দিচ্ছেনা। তাই আমি আমার অংশে গাছ রোপন করেছি। গত ১৬ জুন তারা আমার গাছ কেটে ফেলে। বাঁধা দিলে আমাদের ৩ জনকে মেরে মারাত্নক আহত করে।
প্রতিবেশী রায়না বেগম, আব্দুল কাদের, তোফায়েল মিয়া বলেন, ১৬ জুন মুমিন মিয়া রাস্তা বন্ধ করে সুপারি গাছ রোপন করেন ও রাস্তায় খুঁটি বসিয়ে দেয়। এই ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তপ্ত কথা কাটাকাটির মধ্যে মুমিন মিয়ার বোন ঢিল মারে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোপাল রায় বলেন, তাদের রাস্তার বিষয় নিয়ে আমরা কয়েক বার সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্ত সমাধান করতে পারিনি। মারামারির ঘটনার পরও মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের রোমে বসে স্থানীয় ভাবে সমাধানের প্রস্তাব করেলে মুমিন মিয়া রাজি হয়নি।
এব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনা নিয়ে আমার অফিসে কোন সমাধানের প্রস্তাব করা হয়নি। মারামারির ঘটনায় মুমিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় আছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা করছেন বিষয়ে স্থানীয়ভাবে দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category