দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে চার বছরের কন্যা সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ অক্টোবর চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত তকির উদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল হালিমের সঙ্গে বোচাগঞ্জ উপজেলার দকচাই এলাকার সফিকুল ইসলামের মেয়ে মোছা. এমি বেগমের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বর্তমান বয়স প্রায় চার বছর। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী মো. আব্দুল হালিম, তার জা মোছা. আল হেলিনা লিপি, ভাসুর মো. শ্যামল ও ননদ মোছা. মুক্তি বেগমের প্ররোচনায় বাদিনীর কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। এ সময় বিভিন্নভাবে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যবসা করার জন্য বাদিনীর বাবার কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যদিও এর আগে সংসারের খরচের জন্য বাদিনীর পরিবার এক লাখ টাকা দিয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৮ জুন ২০২৬ দুই লাখ টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা বাদিনীকে মারধর করেন। বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে আহত করা হয়। এসময় বাদীনির চার বছরের শিশুসন্তানসহ এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা যৌতুক না আনলে তাকে আর সংসারে রাখা হবে না বলেও জানানো হয়।
পরে বাদিনীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা যৌতুকের টাকা ছাড়া তাকে সংসারে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে আহত অবস্থায় বাদিনীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সুবিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন।
এ ঘটনায় বাদিনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর সি.আর. ২৯৪/২০২৬। বর্তমানে আসামীরা বাদীনি মোছা.এমি বেগমকে মামলা তুলে নিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।