প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মালামাল সরবরাহের নামে বেনাপোল কাস্টমসের গুদাম থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য পাচারের চেষ্টার অভিযোগে কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২২ জুন) ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানসহ তাদের আটক করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আটক ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চাকরিচ্যুত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
একটি চিঠিতে ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রিপিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল ও ৮টি ওড়না পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীকে। অন্য চিঠিতে ৬৪৮টি শাড়ি, ১০৩টি চাদর, ৭১টি থ্রিপিস ও ৬২টি লুঙ্গি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরীকে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনার প্রায় এক মাস পর শনিবার গভীর রাতে ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের কথা বলে দুটি কাভার্ড ভ্যানে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী বোঝাই করে পাচারের চেষ্টা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিজিবি একটি কাভার্ড ভ্যানসহ তিনজনকে আটক করে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক রুবেল হোসেন বলেন, কাস্টমসের হেফাজতেই যদি পণ্য পাচার হয়, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?কাস্টমস গুদামে সংরক্ষিত বাজেয়াপ্ত পণ্যের পূর্ণাঙ্গ হিসাব-নিকাশ যাচাই করা হলে আরও বড় ধরনেধ্যে র পণ্য চুরি ও অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।এ ধরনের ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, তাদের কাছে গোপন খবর আসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে পণ্য পাচার হচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ট ভ্যান আটক করা হয়। এসময় পণ্যের কোন বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে না পারায় ট্রাকে থাকা ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ট্রাকের চালক,হেলপার ও একজন কাস্টমসের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা।
এসময় তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন যাবত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামালসহ পাচার চক্র আটকের নিমিত্তে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকবে জানান তিনি।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় কাস্টমস প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বেনাপোল কাস্টমসের ভল্ট ভেঙে ১৯ কেজি ৩১৮ গ্রাম স্বর্ণ চুরির ঘটনায়ও কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। নতুন এ ঘটনায় কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।।