• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

নওগাঁয় জাতীয় ফল ও আম মেলা নিয়ে বির্তক, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

নওগাঁ প্রতিনিধি / ৩১ Time View
Update : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

নওগাঁয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলাকে ঘিরে তৈরী হয়েছে নানা বির্তক।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদের ঝড়।
অভিযোগ উঠেছে মেলার নামে বরাদ্দ আত্মসাতের জন্য শুধুমাত্র উদ্বোধন ও ফটোসেশনের মাধ্যমে কৃষি বিভাগ সরকারের কৃষক বান্ধব উদ্দেশ্যটি দায়সারা করার চেষ্টা করেছে। এতে ব্যাহত হয়ে পরেছে সরকারের কৃষক সচেতনতামূলক মহত পরিকল্পনা। আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক কৃষি উদ্যোক্তা ও সংবাদকর্মীকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া দেখা গেছে এবং সেইসব পোস্টকে ঘিরে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে আম মেলা ও বদলগাছী কৃষি প্রশিক্ষন হলরুমে ফল মেলা ব্যানারে পৃথকভাবে দুইটি মেলার উদ্বোধন করা হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজিত মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বদলগাছী উপজেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি। তবে মেলা উদ্বোধনকে ঘিরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারি ও কিছু কৃষকের সামান্য সময় সমাগম দেখা গেলেও কিছু পরই তা শূন্য হয়ে পরে। এছাড়াও মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই মেলা ঘুরে দেখা যায়, জেলা কৃষি সম্প্রসারন চত্বরে মেলা প্রাঙ্গন সম্পর্ণ ফাঁকা। এমনি অধিকাংশ স্টলগুলোতেও নেই কোন পরিচালনাকারী। তবে মেলা থেকে বের হওয়ার পথে একজন নারী দর্শনার্থীর দেখা মিলে।

আর বদলগাছী কৃষি প্রশিক্ষন রুমের মেলা বাহির থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই অফিসটি খোলা নাকি বন্ধ। অফিসে প্রবেশের প্রধান গেট বন্ধ রেখে একটি পকেট গেট খোলা রেখে ভিতরে চলছে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা। ভিতরে প্রবেশ করে দুইজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কক্ষের দুই পাশে সাজানো কিছু ফল আর কিছু ফাঁকা চেয়ার ছাড়া এই সময়ের মধ্যে কিছু চোখে পরেনি। নেই কোন কৃষক বা কৃষি উদ্যোক্তা।

কৃষক ও সচেতন মহলের দাবী এসব মেলা মূল উদ্দেশ্য পুরন করতে হলে অবশ্যই লোক সমাগম  স্থানে আয়োজন করতে হবে। কিন্তু জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস হলো ফাঁকা জায়গায়। সেখানে প্রয়োজন ছাড়া কেউ যায়না। এই স্থানে মেলা আয়োজন করা অবশ্যই তা দায়সারা ছাড়া কিছু নয়। আর বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষন কক্ষ একটি বদ্ধঘর। সেখানে এমন আয়োজন তো স্পষ্টই প্রমান করে তা কতোটা দায়সারা হয়েছে। মূলত মেলাকে কেন্দ্র করে সরকারের যে উদ্দেশ্য তা পুরন করার ইচ্ছে নিয়ে কৃষি অফিসারগণ মোটেও ইচ্ছুক নয়।

দায়সারা ভাবে আয়োজন করে বরাদ্দ আত্মসাতই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য।  এজন্য খরচ বাচাঁনোর জন্য  সমাগম স্থানে মেলা না করে নিজ অফিসে করেছে। আর বিষয়টিকে ঘিরে তৈরী হয়েছে নানা বির্তক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। অনেকেই করছে নেতিবাচক মন্তব্য।

তসলিম আলম নামে একজন বদলগাছী পরিবার গ্রুপে ফল মেলা ছবি পোস্ট করে লিখেন, “জাতীয় ফল মেলা প্রোগ্রাম টা শুধুমাত্র কিছু সিলেক্টেড ব্যক্তিকে নিয়ে করার যৌক্তিকতা কী? ফল উৎপাদন, বিপণন ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করলে অনুষ্ঠানটি আরও প্রতিনিধিত্বশীল, কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতো। বদলগাছী ফল কে বিশেষ করে জিআই পণ্য নাক ফজলি কে ব্রান্ডিং করার একটা উপযুক্ত অনুষ্ঠান হতে পারতো। যার মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়ার সুযোগ ছিলো। কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না।  বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নওগাঁ কৃষি সস্প্রসারণ মেলা পরির্দশনে আসা নারী রমী রায় বলেন, ফেসবুকে দেখে মেলায় এলাম। কেননা এখানে বিভিন্ন প্রজাতীর আম আছে। তবে মেলাটি মুক্তির মোড়, কেডির মোড় বা বিয়াম স্কুল প্রাঙ্গনে হওয়া উচিৎ ছিল।  তাহলে মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতো।

বদলগাছী উপজেলার তিলবদলী গ্রামের কৃষক খালেকুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের এলাকায় যে একটা উপসহকারী কৃষি অফিসার দ্বায়িত্বে আছে তিনি দেখতে আসলে কেমন সেটাই তো দেখলাম না। আর ফল মেলা বিষয়ে জানা সেটা তো অসম্ভব। আপনারা বললেন বলে জানলাম যে কৃষি অফিসে একটা মেলা হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান বলেন, মেলা আয়োজন করা নির্দেশ আছে আমরা আয়োজন করেছি। কৃষকরা আসলেন কিনা সেটা দেখা তো আমাদের দ্বায়িত্ব নয়। তবুও আমরা কৃষকদের জানাচ্ছি মেলায় আসার জন্য।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, উপজেলা পর্যায়ে মেলার জন্য যে বরাদ্দ তাতে অফিসের বাহিরে আয়োজন করা মোটেও সম্ভব নয়। আর আমাদের জেলা অফিসের মেলাতে যথেষ্ট কৃষক সমাগম আছে।  শুক্রবার জন্য সকালে হয়তো একটু কম লোক আসছে তবে বিকেলে আবারও গমাগম বাড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category