• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

‘সিগারেটের দাম বাড়লো কেন, মদের দাম বাড়লো কেন?’ কী আর বলবো!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি / ৮৭ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার জনকল্যাণমুখী বাজেট দিয়েছে। আগে আমরা দেখেছি, বাজেট ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের হতো। মিছিলের স্লোগান হতো, গরিব মারার বাজেট মানি না। আর এখন বাজেট ঘোষণার পর মিছিল হচ্ছে, ‘সিগারেটের দাম বাড়লো কেন, মদের দাম বাড়লো কেন?’ কী আর বলবো।’

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ পৌরসভায় অত্যাধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার একটা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ যে কথাটা বলেছিলেন সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভোটারের ভোটের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করব। সারা বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়ে গেছে। আজকে ১৯টি জেলায় ১৯টি জায়গায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যেই কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। আমরা খাল খনন কর্মসূচি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর মধ্যে করেছি। আমরা ইমামদের ভাতা দিতে চেয়েছিলাম। সেই কর্মসূচি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করেছি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে সেই বাজেটে এই সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচিকে আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। একসময় অতীতে যখন বাজেট হতো তখন ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা মিছিল বের হতো। সেই মিছিলের স্লোগান থাকতো ‘এ বাজেট গরিবের, এ বাজেট মানি না। এ বাজেট গরিব মারার, এ বাজেট মানি না।’ এবার কিন্তু এই স্লোগান নেই। এবার স্লোগান কি? মদের দাম বাড়ানো কেন হলো? এবার স্লোগান কি? সিগারেটের দাম কেন বাড়ানো হলো? এইটাই বিএনপি।’

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হলে মাংসের গুণগত মান বজায় থাকে। ঝিনাইদহবাসীর জন্য এই কসাইখানা একটি মাইলফলক। সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি দেখেন মাদক নির্মূলে প্রশাসন কাজ করছে না, তাহলে আমার নম্বরে এসএমএস করবেন। ঘটনা জানাবেন। বাকিটা আমরা দেখবো।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।

জানা গেছে, কসাইখানাটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ কসাইখানার নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (১৮-০২-২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category