হঠাৎ এত রং থাকতে গোলাপি কেন, এই প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই। অতীতে এই ব্র্যান্ডগুলো কিছুটা অনুজ্জ্বল কালো এবং সাদা ডিজাইনে বেশি মনোযোগ দিলেও, সময়ের সাথে সাথে চমৎকার সব রঙের মাধ্যমে ভিড়ের মধ্যে নিজেদের ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তারা। আর বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে গোলাপি রং।
২০২৪ সালে ভোক্তা ট্রেন্ড পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউজিএসএন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ২০২৬ সালে ‘ইলেকট্রিক ফুশিয়া’ অর্থাৎ গোলাপি ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে তৈরি অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং চোখধাঁধানো একটি রং বাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে। সাধারণত ফুটবল আর ফ্যাশন একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায়, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বুটের ডিজাইন শুরুর অন্তত দুই বছর আগেই এই ধরনের পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়। ফলে পণ্যটি যখন শেষ পর্যন্ত বাজারে বা মাঠে আসে, তখন তা ট্রেন্ডের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
তবে এই গোলাপি রং বেছে নেওয়ার পেছনে শুধু ফ্যাশন নয়, রয়েছে একটি সহজ মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত কারণও। মাঠের সবুজ ঘাসের সঙ্গে গোলাপি রঙের বৈপরীত্য বা কনট্রাস্ট চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে। এর ফলে দর্শক টেলিভিশনে খেলা দেখুক, স্টেডিয়ামে বসে দেখুক কিংবা ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রল করুক; সব জায়গাতেই এই রংটি দারুণভাবে নজর কাড়ে। এমনকি স্লো-মোশন ক্লিপ বা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের নিচেও গোলাপি বুট পরা ফুটবলারদের পায়ের কাজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। সব মিলিয়ে বাণিজ্যিক প্রচার আর মাঠের উপযোগিতা—উভয় কারণেই এবারের বিশ্বকাপে ফুটবলারদের পায়ে শোভা পাচ্ছে গোলাপি বুট।
সূত্র: বিবিসি







