নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতা দাবি করেছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
জানা গেছে, আবদুল মালেক রাব্বানী (৪২) নামে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশন নলডাঙ্গা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাঁর ছবি সংযুক্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক মিনিট আট সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
ফেসবুকের ‘এ আর রতন ০০৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে পুরো ভিডিও দেখার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি শতাধিকবার শেয়ার হয় এবং এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করেন নেটিজেনরা। কেউ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন, আবার কেউ ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। অপরদিকে নলডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একজন প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশন নলডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মামুনুর রশিদ আবদুল মালেক রাব্বানীর দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মালেক রাব্বানী বলেন, রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়েছে। তাঁর ভাষ্য, “ভিডিওতে আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে স্থানটি আমার নয়। এটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।”
তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।