কৃষক মো. সেলিম জানান, প্রায় ২০ বছর আগে এ এলাকায় চিকন পটলের চাষ হতো এবং এর স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও ছিল বেশি। কিন্তু চারা না পাওয়ায় সেই চাষ বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বারি পটল ১ ও বারি পটল ২ জাতের চারা ও সার সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ কেজি পটল সংগ্রহ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ কেজি পটল বিক্রি করেছেন। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি গড়ে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
একইভাবে পাশের লগ্নসার গ্রামে অজিত কুমার দাশ ২০ শতক জমিতে পটল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পটল চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামের শাকিল হোসেনও ১০ শতক জমিতে পটল চাষ করছেন।
বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বৈজ্ঞানিক সহকারী শিরিন আক্তার জানান, মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পটলের ফলন পাওয়া যায়। একই গাছ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরও ফলন নেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকের খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। বারি পটল ১ জাত দ্রুত ফলনশীল, রোপণের প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে ফলন শুরু হয়। প্রতি গাছে গড়ে ৩৮০টি ফল ধরে এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টন ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে বারি পটল ২ আকারে বড় এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩০ টন ফলন দেয়।
বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে চাষ, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো মাচা তৈরি এবং কৃত্রিম পরাগায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। জমিতে ১০ ভাগ পুরুষ গাছ রাখা জরুরি, যাতে সুষ্ঠু পরাগায়ন হয়। নভেম্বর মাস চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়।
তিনি আরও বলেন, এই পটল চাষে প্রতি টাকা বিনিয়োগে তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।







