পবিত্র ঈদ-উল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। মৌলভীবাজার শহরের এখন ব্যস্ত সময় পার হওয়ার কথা থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন কামার কারিগররা। তাদের দাবি, বাজারে কয়লা ও লোহার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতা নেই। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সারাবছরের মন্দাভাবের সঙ্গে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে এই বাজারেও। ফলে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও চাহিদা দুটোই তুলনামূলক কম।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার বেরীরপাড় বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কামার দোকানে কেউ চুলায় ভাপি (বাতাস দেওয়ার বিশেষ যন্ত্র) টানছে, কেউবা শান দিচ্ছে দা, ছুড়ি, চাপাতি তৈরিতে দিনরাত কাজ করছে কামাররা। লোহার টুকরা আগুনে পুড়িয়ে সেগুলো পিটিয়ে দা, ছেনিসহ বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরির টুং টাং শব্দে মুখর বেরীরপাড়। ছোট-বড় বাজারগুলোতে কামাররা কর্মব্যস্ততায় দিন পার করছেন।
বর্তমানে ছোট ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, মাঝারি চাকু ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় এবং বড় চাকু বা সেট ১ হাজার টাকার মধ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে বাজার পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকদের মজুরি ও দোকান পরিচালনার খরচ মেটানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কামারশালার মালিকরা। তাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
ত্রেুতারা জানান, “সবকিছুর দামই বেশি। তাই হিসেব করেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে। আগে যে চাকু কম দামে পাওয়া যেত, এখন সেটার দামও অনেক বেশি।
কারিগররা বলছেন, লোহা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচও। ফলে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তবে সেই বাড়তি দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। “আগে ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই অনেক বিক্রি হতো। এবার মানুষ আসে, দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়।”
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা। শেষ মুহূর্তে বাজারে কিছুটা গতি ফিরবে এমন আশাতেই দিন পার করছেন তারা।