• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্বামী হারিয়ে মানবেতর জীবন,বৃদ্ধা হাবিবার,শেষ ভরসা সমাজের সহানুভূতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি / ১১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নং রশিদাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ কচুরি গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা মোছাঃ হাবিবার জীবন যেন দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ অধ্যায়। পিতা নবী আলী। স্বামী ছিলেন আব্দুল কাদির, যার বাড়ি ছিল কাতিয়াচর, ৮ নং মাইরা ইউনিয়নে। সংসার জীবনের চার বছর পর জন্ম নেয় তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান হাকিমা। কিন্তু সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মেয়ে জন্মের কিছুদিন পরই মারা যান স্বামী আব্দুল কাদির।

স্বামীর মৃত্যুর পর হাবিবা আর থাকতে পারেননি শ্বশুরবাড়ি কাতিয়াচরে। বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণ কচুরিতে। বর্তমানে মায়ের দেওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর একটি ঝাপড়া ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে অন্য দশজন মায়ের মতোই বিয়ে দিয়েছিলেন হাবিবা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মেয়ের জীবনেও সুখ আসেনি। বর্তমানে তার জামাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন। ফলে মেয়ের সংসার থেকেও কোনো সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নেই।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ হাবিবা এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো এই বাড়ি, কখনো অন্য বাড়িতে টুকটাক কাজ করেন। কাজ শেষে মানুষ যা খুশি হয়ে দেন, তাই নিয়েই চলে তার জীবন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—তিনি কখনো কারো কাছে হাত পেতে কিছু চান না। কেউ সহানুভূতি দেখিয়ে যা দেন, সেটুকুই নীরবে গ্রহণ করেন।

হাবিবা জানান, প্রতি মাসে তার ওষুধের পেছনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। টাকা জোগাড় করতে পারলে ওষুধ কেনেন, আর না পারলে ওষুধ তো দূরের কথা, অনেক সময় খাবারও জোটে না তার কপালে। কত রাত-দিন যে না খেয়ে কাটিয়েছেন, তার হিসেবও নেই।
অসহায় এই বৃদ্ধা এখন সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহায়তার দিকে চেয়ে আছেন। তার প্রত্যাশা—কেউ যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো জীবনের শেষ সময়টুকু একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাবিবার মতো অসহায় মানুষের পাশে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একজন বৃদ্ধা মায়ের মুখের হারিয়ে যাওয়া হাসি। বদলে দিতে পারে হাবিবার জীবনের শেষ সময়ের কষ্টময় অধ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category