খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও জেলা সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পির পৈতৃক জমি দখল এবং তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের বিরুদ্ধে।
রবিবার সকালে খুলনা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিএনপির মনিটরিং সেলে লিখিত অভিযোগ দেন বাপ্পি। একই সময়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছেও অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে নগরীর ফুলবাড়ীগেট কুয়েট রোড এলাকায় বাপ্পিদের পৈতৃক সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের নির্দেশে আন্তজেলা ডাকাত সর্দার জহির ও ক্যাডার দীপুসহ ২০-২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
এ সময় বাপ্পির কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তার বাবাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় আব্বাস নিজেই পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আব্বাস স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্বাসের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে দল থেকে তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি শোকজের আওতায় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ নিয়ে সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, “দীর্ঘ তিন যুগ ধরে আমরা এই জমি ভোগদখল করছি এবং নিয়মিত খাজনা দিচ্ছি। কিন্তু আব্বাস ও তার লোকজন জোরপূর্বক ৩ শতক জমি লিখে দিতে বলছে, না হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।