চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ (সিজন-২)’। সিলেট বিভাগের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে মনিপুরী, খাসিয়া, চাকমা, চা শ্রমিক, গাঢ়োসহ ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরবেন এবং থাকছে প্রদর্শনী ষ্টলও।
আগামীকাল ১৯ জুন, শুক্রবার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম, এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত সম্ভাষণ জ্ঞাপন করবেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আবদুর রউফ, এনডিসি এবং সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, এনডিসি।
আয়োজকরা জানান, বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। উৎসবে নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্র্যময় জীবনাচার, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, লোকজ সংস্কৃতি, শৈল্পিক কারুকাজ ও ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা স্থান পাবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, “হারমোনি ফেস্টিভ্যাল এমন একটি আয়োজন, যেখানে ঐতিহ্য ও ঐক্যের বন্ধন একসূত্রে গাঁথা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এ উৎসব উপভোগের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “হারমোনি ফেস্টিভ্যাল এ অঞ্চলের বহুজাতিক সংস্কৃতি, নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।”
উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই আয়োজন দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।