• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
Headline
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কৃষকের মুখে হাসি দুই দশক পর কুমিল্লার চিকন পটল ফিরেছে মাঠে

কুমিল্লার বরুড়া প্রতিনিধি বর্তমান বাংলাদেশ / ৯১ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

দুই দশক পর আবারও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মাঠে ফিরেছে ঐতিহ্যের চিকন পটল। উন্নত ফলন ও ভালো বাজারদরে বিক্রির কারণে কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি ফুটেছে। এক সময় এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সরু পটলের চাষ হলেও জলাবদ্ধতা ও চারার সংকটে তা হারিয়ে যায়। তবে গত দুই বছর ধরে নতুন করে এই পটল চাষে ফিরতে শুরু করেছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের মনোহরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি উদ্ভাবিত পটলের চাষ করেছেন কৃষক এতিম আলী ও তার ভাই মো. সেলিম। সবুজ মাচায় সাদা ডোরাকাটা পটল ঝুলছে সারি সারি। ফলনের ভারে নুয়ে পড়েছে মাচা। তীব্র গরমেও পরিবার নিয়ে পটল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কৃষক মো. সেলিম জানান, প্রায় ২০ বছর আগে এ এলাকায় চিকন পটলের চাষ হতো এবং এর স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও ছিল বেশি। কিন্তু চারা না পাওয়ায় সেই চাষ বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বারি পটল ১ ও বারি পটল ২ জাতের চারা ও সার সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ কেজি পটল সংগ্রহ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ কেজি পটল বিক্রি করেছেন। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি গড়ে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

একইভাবে পাশের লগ্নসার গ্রামে অজিত কুমার দাশ ২০ শতক জমিতে পটল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পটল চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামের শাকিল হোসেনও ১০ শতক জমিতে পটল চাষ করছেন।

বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বৈজ্ঞানিক সহকারী শিরিন আক্তার জানান, মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পটলের ফলন পাওয়া যায়। একই গাছ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরও ফলন নেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকের খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। বারি পটল ১ জাত দ্রুত ফলনশীল, রোপণের প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে ফলন শুরু হয়। প্রতি গাছে গড়ে ৩৮০টি ফল ধরে এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টন ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে বারি পটল ২ আকারে বড় এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩০ টন ফলন দেয়।

বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে চাষ, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো মাচা তৈরি এবং কৃত্রিম পরাগায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। জমিতে ১০ ভাগ পুরুষ গাছ রাখা জরুরি, যাতে সুষ্ঠু পরাগায়ন হয়। নভেম্বর মাস চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়।

তিনি আরও বলেন, এই পটল চাষে প্রতি টাকা বিনিয়োগে তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category