১ নভেম্বর ‘জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের তরুণ ও যুবসমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আজ এক যৌথ বাণীতে বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকরামুল হক খান, মহাসচিব এডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ এবং মুখপাত্র কাজী শামসুল ইসলাম এ শুভেচ্ছা জানান।
যৌথ বাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “যুবসমাজই একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি, প্রগতির অগ্রদূত এবং সমৃদ্ধ আগামী গড়ার প্রধান কারিগর। এবারের যুব দিবসে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তারুণ্যের ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং যুবসমাজের সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করা।”
বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকরামুল হক খান তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আধুনিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের গতিশীল ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত রূপান্তর সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
দলের মহাসচিব এডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ বলেন, “আমাদের যুবসমাজের সম্ভাবনা অসীম। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিটি তরুণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। যুবশক্তির সঠিক বিকাশই দেশকে স্বনির্ভর করে তুলবে।”
দলের মুখপাত্র কাজী শামসুল ইসলাম বলেন, “আসুন, যুব দিবসের এই শুভক্ষণে আমরা সবাই মিলে তারুণ্যের যৌক্তিক ভাবনাগুলোকে সম্মান জানাই এবং যুবসমাজের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নিই।”
যুবসমাজের কল্যাণে বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির ৫ দফা দাবি ও এজেন্ডা:
বাণীতে নেতৃবৃন্দ দেশের যুবসমাজের ভাগ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি ও দলীয় এজেন্ডা তুলে ধরেন:
১. বেকারত্ব দূরীকরণ ও শতভাগ কর্মসংস্থান: দেশে শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে অবিলম্বে যুগোপযোগী ও কার্যকর জাতীয় কর্মসংস্থান নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. কারিগরি ও আইটি শিক্ষার প্রসার: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক কারিগরি, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
৩. তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে ঋণ: নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জামানতবিহীন ও বিনা সুদে বিশেষ ‘স্টার্ট-আপ’ ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠন: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা এবং প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পাঠাগার নির্মাণ করতে হবে।
৫. রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে যুবকদের অংশগ্রহণ: দেশের political ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ জাতীয় যুব দিবস ২০২৬-এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং এই ন্যায়সংগত দাবিগুলো আদায়ে দেশের যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।