স্থানীয় সময় রবিবার গোরখা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে ভেসে গেছে, এতথ্য জানিয়েছেন চুমুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ভোরে হঠাৎই বন্যা চলে আসে। আমরা আমাদের জিনিসপত্র ঘর থেকে বের করতে পারিনি। পানির শব্দ শুনেই আমারা সব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যাই।’
চলতি বছরের ২৬ আগস্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যায় বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল হিমালয় অঞ্চলের দেশটিতে। নতুন করে চুমনুব্রি গ্রামের এ বন্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গোর্খার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি সিউরিবাসের ওপরে ভূমিধস নামে। তবে গণ্ডকী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।’
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে এই বন্যা হয়নি। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর পানি কালচে ও ধূসর রং ধারণ করেছে। পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পলি ও ধ্বংসাবশেষ প্রবাহিত হচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৩ মিটারে। যেখানে বিপদসীমা ৫ মিটার।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটেই নদীর পানির উচ্চতা দুই মিটারেরও বেশি বেড়ে যায়।
সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে পানির উচ্চতা পরিমাপের কেন্দ্র ও সেতু ভেসে যাওয়ায় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, নদীর পানিস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ওড়ানো হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীকে আকাশপথে ও স্থলপথে মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আকাশপথে পর্যবেক্ষণ ও স্থলভিত্তিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে ছয়জনকে হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলকেও আকাশপথে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের গত আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই এখনো হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। এই বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৪৫৩ জনের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।
ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই গোরখায় নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।