মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের প্রতিবাদে জেলা পরিষদের মানববন্ধন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, কালভার্ট, ছোট ব্রিজ, ইট সলিং, নতুন করে সড়ক নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণ কাজের বিল আটকে রাখা ও তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার প্রতিবাদে পরিষদের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারবৃন্দ মানববন্ধন করেন। এসময় তারা তাকে প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। পরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্বারক লিপি পেশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উন্নয়ন মূলক কাজে ঠিকাদারগণ তাহার কথামতো প্রতি প্রকল্প কাজে পার্সেন্টিজ না দিলে ঠিকাদারগণকে বিভিন্ন রকম হয়রানী, ভয়ভীতি ও কাজের মিথ্যা অনিয়ম দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। নতুবা কৌশলে কাজের ফাইল আটকিয়ে রাখেন। জেলা পরিষদের আওতাধীন শেরপুর, কুলাউড়া, মাধবকুন্ড, কটারকোনা, শ্রীমঙ্গল, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর ও বিভিন্ন উপজেলায় জলমহাল থেকে ও জেলা পরিষদের আওতাধীন জেলার বিভিন্ন দোকান কোঠা থেকে তৎকালীন উচ্চমান সহকারী এনামুল হকের মাধ্যমে মাসুরা উৎকোচ গ্রহণ করতেন। জেলা পরিষদের শ্রীমঙ্গল ডাক বাংলা ও মাধবকুন্ড ডাক বাংলায় অনেক স্টাফ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেন। বিগত সরকারের আমলে তার অনেক ফাইলে ভূয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ রয়েছে। সাবেক আওয়ামী দুসর আমলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমানের সহযোগিতায় দুজনে মিলে জেলা পরিষদকে একটি দুর্নীতির আখড়া হিসাবে গড়ে তোলেন। সে সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারের একক কর্তৃত্বে ও চাঁদাবাজি পার্সেন্টিজ এই সমস্ত কর্মকান্ডে মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। ঠিকাদারগণকে সিডিউল মোতাবেক কাজ না করিয়ে নিজস্ব ক্ষমতাবলে আইটেম পরিবর্তন করে কাজ করতে বাধ্য করতেন। ২০২৪ এর পিপিআর আইন লঙ্গন করে জেলার কালেক্টরেট স্কুল, কালেক্টরেট মসজিদ এবং কোর্ট মসজিদের অজুখানার কাজ শেষে বিল আটকিয়ে পার্সেন্টিজ আদায় করেন। প্রত্যায়ন থাকা সত্ত্বেও বিগত ৮ মাস যাবত বিল আটকে রয়েছে। ১ বৎসর পর ঠিকাদারের জামানতের টাকা ফেরত না দিয়ে অনেক ঠিকাদারের ফাইল আটক রেখেছেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ হতে শান্তিমূলক বদলী দাবী করেন তারা।
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার মানববন্ধনে তার উপর আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে বলেন, এই মানববন্ধন কিছু ঠিকাদারের পরিকল্পিত। তাদের অভিযোগ মিথ্যা বনোয়াট। আমার সামনে কোন প্রমান দিতে পারবেনা। আমি ওয়ার্ক অর্ডার মোতাবেক বিল দেওয়া হয়েছে। এখানে কোন গফলাতি বা টাকা নেওয়া হয়নি।