পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময়, রুপ বৈচিত্রে পরিপূর্ণ হলেও পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ-হতাশায় পর্যটকরা। জেলার ৭টি উপজেলাসহ শহরের আশপাশে নেই পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও বঞ্চিত হচ্ছেন বিনোদনের সুযোগ থেকে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ খাতের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামো গড়ে ওঠেনি। কিন্তু সেই উদ্যোগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পর্যটন জেলা ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
জানা যায়, মৌলভীবাজারে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। হাওর বাহর,চা বাগান, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। ২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণার কথা বলা হয়েছিল। এরপর ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে পর্যটনের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
প্রস্তাবে জেলার চা-বাগান, বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা, হাওর-বাওড়, ঝরনা, নদ-নদী ও জীববৈচিত্র্যকে পর্যটনের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া, মণিপুরি ও খাসিয়া পল্লি, বড়লেখার মাধবকুণ্ড এবং হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন স্থানকে যুক্ত করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার সুপারিশ করা হয়েছিল। পর্যটকদের আবাসন, বিনোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ও প্রস্তাবে ছিল।
জেলার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, এখানে থাকা পর্যটনকেন্দ্রগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, নির্দেশনা ও পরিবহনসুবিধা সব জায়গায় নেই। অনেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, তথ্যসেবা, শৌচাগার ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও সীমিত।
অপরদিকে,জেলা শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে প্রায় ৮৮৭একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে নান্দনিক বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। ২০০৬সালে এ বনকে ইকোপার্ক ঘোষণা করে সরকার। ছোট ছোট টিলা, ঘন সবুজ বন আর বৈচিত্র্যময় প্রাণীকুলে সমৃদ্ধ এ পার্ক। একসময় এখানে ছিল মিনি ক্যান্টিন, কটেজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও ফুট ট্রেইল। অন্যদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ১৫একরের বেরী লেকও হচ্ছে- হবে এই দুরাশায় চলছে বছরের পর বছর। ফলে সেটিও দখল আর হারাচ্ছে সৌন্দর্য। এক সময় লেক পাড়ে শিশু পার্ক থাকলেও বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা, দখল ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়া মনু নদের পাড়ে নির্মিত “শান্তিবাগ ওয়াকওয়ে”র কাজ শেষ হলেও চালু হয়নি এখনো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মৌলভীবাজারের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পরিবেশবাদীদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে যোগাযোগ, নিরাপত্তা, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটনসেবা উন্নত করা গেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, পর্যটন ব্যবসায়ীদের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়। খরচ বেড়েছে, আয় কমেছে। তার দাবি, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পর্যটনবিষয়ক কোনো সভায় তাদের ডাকা হয়নি। ২০১৭ সালে নেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনাটিরও বাস্তবায়ন হয়নি বলে তিনি জানান।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার কথা শুনছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি গেজেট তিনি পাননি।