লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হতদরিদ্র বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা নারীদের স্বালম্বী করতে দর্জি প্রশিক্ষণসহ বিনামুল্যে সেলাই মেশিন বিতরন করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার(১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে এসব বিতরন করেন বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের।

বিজিবি সুফলভোগীরা জানায়, তিস্তা নদীর কড়ালগ্রাসে বিদ্ধস্থ নদীপাড়ের এ জনপদের মানুষ দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরীত। এসব পরিবারের প্রায় সকল নারী কর্মক্ষেত্রের অভাবে বেকার ও পুরুষদের আয়ের উপর নির্ভরশীল। সেই পরিবারের যেসকল নারী বিধবা বা স্বামী পরিত্যাক্তা তাদের সংসারের পরিনতি আরও করুন। শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্র বা পুঁজির অভাবে নিদারুন অর্থকষ্টে পড়ে এসব পরিবারের ছেলে মেয়েরা পড়ালেখার সুযোগ বঞ্চিত হয়ে শিশুশ্রমে ধাবিত হচ্ছে।
শিশুশ্রম রোধে স্বামীপরিত্যাক্তা ও বিধবা নারীদের স্বালম্বী করতে আত্নকর্মসংস্থান মুলক কর্মসুচির আওতায় দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। তিস্তাপাড়ের এমন পরিবারের নারীদের প্রথমে দুই সপ্তাহের দর্জি প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এরপর তাদের প্রত্যেককে বিনামুল্যে একটি করে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়।
বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষিত ১৫জন বিধবা নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের। এ সময় তার সাথে ছিলেন তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবির) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাকসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বিনামুল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগে আপ্লুত বিধবা রুমী আক্তার বলেন, দুই মাস আগে রাজমিস্ত্রী স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। দুই মেয়েকে নিয়ে এ সংসার প্রায় নিভে যেতে বসেছিল। অনামিশার অন্ধকারে ঢেকে যায় সন্তানদের ভবিষ্যাত। এমন সময় বিজিবি দর্জি প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন তুলে দিলো। আজ থেকে বেঁচে থাকার নতুন সংগ্রাম শুরু হলো। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ও সংসার সচল রাখার এ সেলাই মেশিন আমার পাথেয়। এজন্য বিজিবি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের বলেন, আমরা অসহায় নারীদের প্রশিক্ষন প্রদান করে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন প্রদান করলাম আমাদের এই কাজ সফল হবে তখন, যখন তারা সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।
সুফলভোগিদের উদ্দেশ্য তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি এই কাজকে পেশা হিসেবে নেন তাহলে আমাদের কাজ সফল হবে। পরবর্তীতে আমরা অসহায়দের জন্য আরো ভাল কিছু করার চেষ্টা করবো। তাই আপনারা এই সেলাই মেশিনগুলো ফেলে না রেখে জীবিকার পথ তৈরি করবেন।