বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিদেশি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ (সিইআইজেড) দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের কর অবকাশ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস। এর ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন।
অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘বাংলাদেশ তহবিল’-এ হংকংয়ের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল, পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হংকংয়ের বাজারকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে হংকংয়ের ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এর আগে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান, কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদ এবং ‘ইনভেস্ট হংকং’-এর মহাপরিচালক আলফা লাউয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
১৯৭৬ সালে হংকংয়ে বাংলাদেশের ট্রেড কমিশন চালুর মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।