খুলনার খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে ১৫৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। তার দাবি, দলিলপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার মধ্যে তারা জমিতে কাজ করতে গেলে একটি পক্ষ বাধা সৃষ্টি করে এবং ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিট্টুসহ স্থানীয় আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
পরে আব্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বহিরাগত লোকজন এনে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আব্বাসের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিতে তার কোনো মালিকানা নেই। তাই সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
অন্যদিকে সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, “আমাদের দলিলে জমির চৌহদ্দিসহ বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আমরা দলিল অনুযায়ী আমাদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই কাজ করছি। কারও কোনো আপত্তি থাকলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অন্যায়ভাবে আমাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

ঘটনাস্থলে বহিরাগত লোকজন আনার অভিযোগও অস্বীকার করেন বাপ্পি। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বহিরাগত হিসেবে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাই না। বরং আমাদের বৈধ জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে চাই। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে যার যার দাবি রয়েছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।”
এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মতিয়ার রহমান জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এনিয়ে পুলিশ ১৫৪ ধারায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখানে রাজনৈতিক কোন প্রভাব ছিলো না। স্থানীয় বিএনপি ও এনসিপি সরেজমিনে ছিলো বলে শুনেছি। তিনি বিএনপির থানা সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস ফোন দিয়েছিলো বিষয়টি মিমাংসার জন্য, কোন অনৈতিক প্রভাবের জন্য নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক বাসিন্দা জানান, জমিটি আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের বাড়ির সংলগ্ন হওয়ায় এটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বিরোধ চলে আসছে। তার দাবি, জমিটি দখলে নেওয়ার বিষয়ে আব্বাসের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালানোর কথা এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে আব্বাসকে পাওয়া না গেলেও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।