• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মৌলভীবাজার জেলায় বিভিন্ন চা বাগানে চা শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা: হাসপাতাল আছে, সেবা নেই ?

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি / ৬০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলায় বিভিন্ন চা বাগানে চা
মৌলভীবাজার জেলায় বিভিন্ন চা বাগানে কাগজে-কলমে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নাজুক। জীর্ণ অবকাঠামো, পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে বছরের পর বছর ধরে ব্যাহত হচ্ছে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা। প্রশ্ন উঠছে,দেশের চা শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এসব শ্রমিকের চিকিৎসার অধিকার কি শুধু হাসপাতালের একটি ভবন আর নামমাত্র সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত চা-বাগানের এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি হয়নি। অথচ চা-শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলো দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিটি ডিসপেনসারিতে নিয়মিত চিকিৎসক, মিডওয়াইফ বা নার্স এবং সাপোর্ট স্টাফ থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ বাগানেই নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার। অনেক জায়গায় কম্পাউন্ডারদের ওপর ভর করেই চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল আছে, কিন্তু নেই নিয়মিত চিকিৎসা; ওষুধ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সব ওষুধ নেই; চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। বছরের পর বছর ধরে এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন হাজারো চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। অনেক চা-বাগানে হাসপাতাল বা ডিসপেনসারিগুলোর অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; কোথাও মাটির দেয়াল কিংবা টিনের ছাদের জীর্ণশীর্ণ ঘরে কোনো রকমে কার্যক্রম চলছে। সরকারের উদ্যোগে চা-বাগানগুলোর হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করে শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, সামান্য সর্দি, কাশি, জ্বর বা কোনো সাপে কাটলে বা জোঁকের কামড় বসালে পর্যাপ্ত ওষুধ বা জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশন পাওয়া যায় না। ৫-৬ মাইল দূরে গিয়ে কাজ করতে হয় এবং অসুস্থ হলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। তাই প্রতিটি বাগানে যোগ্য চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।
পাত্রকলা চা বাগানের কম্পাউন্ডার রাজকুমার গঞ্জু বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান সংকট হলো আমাদের বাগানগুলোতে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই। মূলত কম্পাউন্ডারদের ওপর ভর করেই এই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানও স্বীকার করেছেন, আমি নিজেও কয়েকটি ডিসপেনসারি ও বাগান পরিদর্শন করেছি,যে চা-বাগানের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা সন্তুষ্টিজনক নয়। প্রতিটি ডিসপেনসারিতে অন্তত একজন ডাক্তার, মিডওয়াইফ বা নার্স এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফ থাকা উচিত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, “বাগান কর্তৃপক্ষ ফার্স্ট এইডের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেছে। এরপরও বাংলাদেশ চা বোর্ডের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে আমরা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত আছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category