মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জেলা জজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার ইচ্ছালছড়া খাসিয়া পুঁঞ্জি এক প্রভাবশালী মহলকে দখল দেওয়ার চেষ্টা লিপ্ত কুলাউড়া বন বিভাগ। বড়মচাল বন বিট কর্মকর্তা আবদুল ওযাদুদ এর উপর অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের মদদে একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আধাঁরে কেটে ফেলছে খসিয়াদের পান পুঁঞ্জি। বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় নানা ভাবে মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে বন বিভাগ। অন্য স্থানে বন বিভাগের কাটা গাছের মুড়ার ছবি ব্যবহার করে একেক পর এক সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানী করছে । আবার সোস্যাল মিডিয়ায় গাছ চুরির অভিযোগ এনে প্রচার করছে খাসিয়া নৃগুষ্টির বিরোদ্ধে। এই হয়রানীর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা নারীরাও। উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে শত বছর আগে বসতি স্থাপনকারী খাসিয়া সহ অন্যান্য নৃগুষ্টিকে।
গত ২২ সালে কুলাউড়া বন বিভাগ ইচ্ছালছড়া পুঁঞ্জির খাসিয়া সহ অন্যান্য নৃগুষ্টিকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। শত বছর বসবাসকারী খাসিয়া সহ অন্যান্য নৃগুষ্টিরা কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আনালত, মৌলভীবাজারের স্বত্ব মোকদ্দমা নং-১৮৫/২০২২ মামলা দায়ের করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। সিনিয়র সহকারী জজ আনালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। পরে জেলা জজ আদালত, মৌলভীবাজার আপিল করলে আদালত স্থািতাবস্থার আদেশ দিয়ে নিন্ম আদালতের আদেশ রদরহিত করেন। কিন্তু কুলাউড়া বন বিভাগ জেলা জজ আদালতের স্থিতাবস্থাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদের পান পুঁঞ্জির অনেক গাছ কেটে ফেলে। এছাড়াও খাসিয়ারা বন থেকে গাছ কেটে নিয়েছে বলে প্রচার প্রচারনা করে।
এলাকার পশ্চিম খাদিম পাড়ার মো: মোবারক হোসেন বলেন, এই খাসিয়া পুঞ্জি যে কত বছর আগের আমি নিজেও বলতে পারবোনা। আমার বাবার সাথে এই পুঞ্জিতে ১০ টাকা হাজিরায় কাজ করেছি। আমার বয়স বর্তমানে ৬৫ বছরের উপরে। এমন ঘটনা দেখিনি। ইদানিং ইচ্ছালছড়া পান পুঁঞ্জির অনেক পান গাছ সদ্য কেটে ফেলা হয়েছে।
খাসিয়া পুঁঞ্জির মন্ত্রী লিন্ডয়া পিয়া বলেন, আমাদের পুর্ব পুরুষ কত বছর পুর্বে এখানে বসতি গড়েছেন সঠিক হিসাব বলা যাবেনা। শত শত বছর ধরে আমরা পাহাড়ে পান পুঁঞ্জি করে আসছি। পহাড়ের রক্ষনাবেক্ষন করছি। ামাদের পুর্ব পুরুষরা তৎকালীন সময় এই জমি গুলো খজনা দিয়ে লীজ নিয়েছিলেন। ২০২২ সাল থেকে কুলাউড়া বন বিভাগ আমাদেরে হয়রানী করে চলছে। বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা হয়রানী মামলা করছে। আমাদের মহিলাদেরও মামলার আসামী করছে। মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের স্থিতাবস্থা প্রতি বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল দিয়ে আমাদের পুঁঞ্জির পান গাছ কেটে ফেলছে।
বড়মচাল বিট কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, মৌলভীবাজার জজ আদালতে স্বত্ব মামলা চলমান। খাসিয়া পুঁঞ্জির জায়গা নিয়ে জেলা জজ আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে। আমি স্থিতাবস্থার প্রতি সম্মান করি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদেরে দখল দেওয়ার জন্য পান গাছ কাটা সহ হয়রানীর কথা অস্বীকার করেন।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ইচ্ছালছড়া খাসিয়া পুঁঞ্জির বিষয় শুনেছি। আদালতে মামলা চলমান আছে। তাদেরে হয়রানী বা পান পুঁঞ্জি কাটার বিষয় জানা নেই। বিষযটি তদন্ত করে দেখবো।