নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সংসদের সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে কোট-পিন উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যকে “অপপ্রচার” হিসেবে অভিহিত করেছেন আয়োজক, প্রশাসন ও স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা।
গত শনিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথিসহ আগত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এর অংশ হিসেবে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ধানের শীষের নকশায় তৈরি একটি কোট-পিন উপহার দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিরই অংশ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়ে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যের অংশ। তবে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন বলেন,
“আমি নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। এটি একটি স্বাভাবিক, আনুষ্ঠানিক ও সৌজন্যমূলক সম্মাননা প্রদান ছিল। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্কের অবকাশ নেই।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াসিন আলী বলেন,
“আমাদের প্রতিষ্ঠানে বহু বছর ধরে এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছে। অতিথিদের সম্মান জানানো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। একটি স্বাভাবিক বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শিমু হাসান বলেন,
“আমরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছি। সম্মাননা প্রদান আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। পরে সামাজিক মাধ্যমে যে বিভ্রান্তি দেখেছি, তা অপ্রত্যাশিত।”
শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন,
“বিদ্যালয়ের সুন্দর আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যগুলোই সামনে আসা উচিত ছিল। কিন্তু একটি ছোট বিষয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে।”
অভিভাবক পরেশ দাস বলেন,
“এই বিদ্যালয়ে সবসময়ই অতিথিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এটিকে বিতর্কিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”
স্থানীয় সমাজসেবক ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“একটি ইতিবাচক ও শিক্ষামূলক আয়োজনকে ঘিরে অপপ্রচার চালানো দুঃখজনক। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।”
নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরের আলম বলেন,
“পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ। এখানে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না।”
সচেতন মহলের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের প্রবণতা বাড়ায় এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তারা সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ ও সত্যতা যাচাই করে তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতন ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নাটোর অঞ্চলের একটি প্রাচীন ও সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সবশেষে সংশ্লিষ্টদের অভিমত—এটি ছিল একটি স্বাভাবিক ও সৌজন্যমূলক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। একে ঘিরে অপপ্রচার চালানো শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং একটি ইতিবাচক শিক্ষামূলক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।