স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকারনির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা করতে পারব। এ জন্য আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো একাধিক ধাপে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা কম সময়ে যাতে বেশি নির্বাচন করা যায়, সে পরিকল্পনা করছি। প্রথম ধাপে কোন নির্বাচন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নাই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি উপজেলা নির্বাচন আগে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে বলব না। আইনশৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করে যেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করা সম্ভব হবে, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আগে করব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনো যোগাযোগ এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকবেই।
সহিংসতা কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং এটি বজায় রাখার জন্য কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা রাখবে।
এদিকে ইসির কর্মকর্তারা বলছে, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এ প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য হবেন। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে প্রশাসকরাও পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। বিশেষ করে এ আইন সংশোধন হলে অনেকেই সংক্ষুব্ধ হতে পারে।
ইসির স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সাবেক যুগ্ম সচিব (আইন) ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ইসি আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠালে সরকার চাইলে দ্রুত তা সম্পন্ন করতে পারে। তবে আইন সংশোধনের পরে তা চ্যালেঞ্জ করে কেউ আদালতে গেলে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন