কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ই-জিপি নীতিমালা মেনে অনলাইনে মূল্যায়নের পর গত ২ নভেম্বর কাজ পায় চারটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শর্ত কঠিন হয়েছে দাবি করে দরপত্র বাতিলের চাপ দিতে শুরু করেন স্থানীয় কিছু নেতা।
ডা. সুপ্রভার অভিযোগ, ‘মঙ্গলবার হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় হঠাৎ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে হানা দেয় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল। তারা আমার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগবিচ্ছিন্ন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেন। পরে ভেতরে ঢুকে কক্ষের ছিটকিনি লাগিয়ে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।’
‘আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রি-টেন্ডার করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের হুমকিতে আছি। এরই মধ্যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি’— যোগ করলেন তিনি।
ভয়ে নাম প্রকাশ না করে হাসপাতালের কয়েকজন অফিস সহকারী ও কর্মচারী জানালেন, টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াসিম খান বললেন, ‘যারা টেন্ডার পাননি, তারা ম্যাডামকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। আমি ম্যাডামের কক্ষে এসে দেখি সিসি ক্যামেরা উল্টানো। থানায় খবর দিলে পুলিশ আসে। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেত; কিন্তু হাসপাতালে এভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’
টেন্ডারের বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভার কক্ষে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাকে হুমকি দেওয়া ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সিদ্দিকুর। তিনি বললেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সে বিষয়ে কথা বলতেই সেখানে গিয়েছিলাম। কাউকে অবরুদ্ধ বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি।’
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেনের ভাষ্য, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোনে ডাকা হয় আমাকে। সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে দেখতে পাই। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে— এমন কোনো অভিযোগ তিনি আমাকে জানাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বললেন, ‘সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি টেন্ডার না পেলে প্রায় প্রতিটি দপ্তরেই এ ধরনের হেনস্তা বা হয়রানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এর আগে আমি নিজেও এ ধরনের হেনস্তার শিকার হয়েছি। এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’