স্বদেশ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে ভারতের বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলনে বড় শুণ্যতা তৈরী হলো।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আজ এক বিবৃতিতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি – সিপিআই – এম এল লিবারেশনের পলিটব্যুরোর সদস্য প্রবীণ বিপ্লবী নেতা কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন তাঁর মৃত্যুতে ভারতের বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলনে এক বড় শুণ্যতা তৈরী হলো।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গতরাতে বিহারের পাটনায় ৮৪ বছর বয়সে প্রবীণ এই বিপ্লবী নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর ১৯৭৪ সালে যে তিনজন সিপিআই – এম এল লিবারেশন পার্টিকে নতুন ধারায় শ্রেণী ও গণসংগ্রামের ধারায় পার্টিকে পুনর্গঠন করেছিলেন তিনি তার একজন ছিলেন। পার্টি পুনর্গঠন কমিটির প্রথম সম্পাদক কমরেড জহর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, পরবর্তী সম্পাদক কমরেড বিনোদ মিশ্র ১৯৯৮ সালে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এই ত্রয়ী বিপ্লবীদের শেষজন স্বদেশ ভট্টাচার্য গতরাতে চলে গেলেন। কিন্তু রেখে গেছেন বিপ্লবী মতাদর্শ, শ্রেণী ও গণসংগ্রামের এক অসাধারণ উত্তরাধিকার। গত পাঁচ দশকে এই পার্টি ভারতে বিপ্লবী ধারার পুরোধা সংগঠনে পরিনত হয়েছে। ভারতের লোকসভা ও একাধিক রাজ্য বিধান সভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ভারতে ইন্ডিয়া জোটের শরীক হিসাবে ভোটের অধিকার ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে স্বদেশ ভট্টাচার্যের পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলমান এই গণসংগ্রামের অন্যতম নেত্রী নেহা বোরা এই পার্টিরই সদস্য।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন,
স্বল্পভাষী, ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক গুণাবলীর অধিকারী এই মহান বিপ্লবীর প্রয়ানে লিবারেশন পার্টিসহ ভারতের বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলন তাদের অভিবাবকতুল্য এক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের বিপ্লবী জীবন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সপ্তম ও দশম কংগ্রেস লিবারেশনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের নেতা হিসাবে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশ ও তার জনগণের জন্য কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের ছিল গভীর মমতা আর ভালোবাসা।
বিবৃতিতে তিনি কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং
লিবারেশন পার্টির নেতা কর্মীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।