• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
Headline
সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ অক্টোবর) স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

অর্থনীতি প্রতিবেদক / ৫ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

  • নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও আগের তিন মাসের বকেয়া পরিশোধে ব্যাংক খাত থেকে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আগামী ১ নভেম্বর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থও পরিশোধ করার কথা রয়েছে।এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, সাধারণত সরকারের স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়। রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ বিল ছাড়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বিল ইস্যুর প্রয়োজন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। আজকের নিলামে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা তুললে এক মাসে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা বর্তমান সরকারের এক মাসে নেওয়া সর্বোচ্চ ঋণ।

এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরে সাড়ে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার। তবে এসব ঋণের বড় অংশ আগের বিল-বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধ বা পুনঃঅর্থায়নে ব্যয় হয়।

ফলে নিলামের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ ও নিট ঋণের হিসাব এক নয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।

এদিকে সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ায় ট্রেজারি বিলের সুদহারও বেড়েছে। ৯১ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ড ৫ অক্টোবরের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ অক্টোবর ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হয়েছে।

অথচ আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ কমাতে চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যু অর্থনীতি ও সরকারের সক্ষমতার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ালে সরকারের ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়বে এবং বেসরকারি খাত আরো সংকুচিত হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়ায় সরকারকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিতে হচ্ছে। মেয়াদপূর্তির ঋণ পরিশোধেও সরকারকে নতুন ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়বে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category