শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের ১ হাজার ২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৬ হাজার ১৭২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলার সব উপজেলায় নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দেন মৌলভীবাজার জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট ও উপপরিচালক মো. রাশিদুল হাসান জন।
এ সময় তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জেলার অন্যতম ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রত্যেক সদস্যকে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নজরদারি, প্রতিমা ও মণ্ডপের সুরক্ষা, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নারী, শিশু ও প্রবীণদের সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা রোধে সদস্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি পুলিশ, প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা, দুর্নীতি কিংবা অসদাচরণ বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়। মহাপরিচালকের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সদস্যকল্যাণেও গুরুত্ব
নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সাংগঠনিক ঐক্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নেও কাজ করছেন জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশিদুল হাসান জন। গত পাঁচ মাসে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সমন্বয় ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
এরই অংশ হিসেবে তাঁর তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের নিয়ে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের স্থানীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। মহাপরিচালকের সদস্যকল্যাণমূলক এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সদস্যদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্লাটুনেও সদস্যকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।