ছবি:বর্তমান বাংলাদেশ
পুরান ঢাকার চকবাজারের মার্কেটের গুদামে লাগা আগুন প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে পুড়ে যায় মার্কেটের ষষ্ঠতলায় থাকা মালামাল। সরু গলি, ভবনের কাঠামোগত জটিলতা, ঘন ধোঁয়া ও পানির সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। একের পর এক ইউনিট যুক্ত হলেও আগুনের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ কাটছিল না।
গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকার মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠতলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের খবর পায়। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা। সর্বশেষ ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ও জ্বলন্ত মালামাল থেকে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নির্বাপণ কার্যক্রম চালাতে হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও ভবনের ভেতরে থাকা মালামাল সরানো ও পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলছিল।
সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের পণ্যের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। গুদামে রাখা মালামালের অবস্থা, দীর্ঘদিনের পুঁজি হারানো এবং সামনে থাকা ব্যবসায়িক দায়দেনা নিয়ে তারা হা-হুতাশ করছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ক্ষতির পরিমাণ, তাদের সঞ্চয় বা ঋণের অবস্থা এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির চিত্র পেতে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও গুদামের তালিকা, মজুদ পণ্যের হিসাব এবং ব্যবসায়ীদের নথিপত্র যাচাই জরুরি।
ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ বললেন, ‘ভবনটিতে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল।’ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ‘আগুনের সূত্রপাত হয়েছে গোডাউন থেকে। এসব গোডাউনে কসমেটিকস, ব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। পরে আগুন বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে।’
ধোঁয়ায় অসুস্থ চার ফায়ার ফাইটার
এ ঘটনায় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তারা হলেন— পলাশী ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার জিল্লুর রহমান ও লিডার নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মারুফ এবং খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের লিডার মাহাফুজুর হক মজুমদার।
প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্লাজার একটি ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন। ওই মার্কেটে ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুদ ছিল।