• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

জুমের ধান ঘরে তুলতে চাহিদা বেড়েছে বাঁশের ঝুড়ির

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি / ৫০ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

চাহিদা বেড়েছে বাঁশের তৈরি নানা ধরনের ঝুড়ির। ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ

পাহাড়ে জুমের পাকা ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা চলছে। এ সময় জুম থেকে ধান ও অন্যান্য ফসল বহনে প্রয়োজন হয় বাঁশের তৈরি নানা ধরনের ঝুড়ি। মৌসুমের চাহিদা ঘিরে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারে উঠেছে বিভিন্ন আকারের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ঝুড়ি।

তবে বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও ঝুড়ি বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ঝুড়ির দাম বেড়েছে।

গতকাল শনিবার মাইসছড়ি বাজারে বিক্রির জন্য বাঁশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি নিয়ে এসেছেন কারিগরেরা। এসব ঝুড়ির মধ্যে আছে হাল্লোং, লেই, খারাং ও কূলা। এ ছাড়া ধান শুকানোর জন্য রয়েছে বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি একধরনের মাদুর, যার নাম থলই।

পাহাড়ে জুম চাষে বহুল ব্যবহৃত ঝুড়ি হাল্লোং। এটি পিঠে বহন করা হয়। একটি ফিতা মাথার সঙ্গে আটকে ঝুড়িটি বহন করতে হয়। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পরিবহন করা সহজ হয়। নারী-পুরুষ উভয়েই এটি ব্যবহার করেন। লেই আকারে ছোট, মূলত বিভিন্ন পণ্য রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

খারাং দেখতে অনেকটা লেইয়ের মতো হলেও এর তলায় ছিদ্র থাকে। আদা, হলুদ ও বিভিন্ন ধরনের বন্য আলুর মতো ফসল মাটি থেকে তোলার পর এতে রাখা হয়। ছিদ্র দিয়ে মাটি ঝরে পড়ে। অন্যদিকে থলইয়ে ধান শুকানো হয়।

মাইসছড়ি ইউনিয়নের হাজাছড়া গ্রামের বাঁশের বেতের কারিগর জলি মোহন ত্রিপুরা শনিবার বাজারে চার জোড়া লেই, তিন জোড়া খারাং ও একটি থলই বিক্রির জন্য এনেছিলেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো ঝুড়ি বিক্রি করতে পারেননি। তবে অনেক ক্রেতাকে দামদর করতে দেখা গেছে।জলি মোহন ত্রিপুরা জানিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় তারা বাঁশের বেত দিয়ে ঝুড়ি তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে এ পেশায় সংকট চলছে। ঝুড়ি বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও এক ছেলে বাঁশের বেতের ঝুড়ি তৈরির কাজে যুক্ত।

একই গ্রামের আরেক কারিগর রজনী ত্রিপুরাও ঝুড়ি বিক্রি করতে বাজারে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত ঝুড়ি তৈরির কাজ করেছেন। বাঁশের বেত দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করা হলেও বিভিন্ন অংশ বাঁধার কাজে এখন প্লাস্টিকের দড়ি ব্যবহার করতে হয়। আগে এসব কাজেও বাঁশের বেত ব্যবহার করা হতো।

মহালছড়ির নুনছড়ি মাতাইপুকুরি এলাকার গুরিমালা ত্রিপুরা এসেছেন ঝুড়ি কিনতে। বাড়ির পাশে অল্প জায়গায় জুম চাষ করেছেন তিনি। জুমের ধান পাকতে শুরু করায় হাল্লোং কিনতে বাজারে এসেছেন। তিনি জানালেন, জুম থেকে ধানসহ অন্যান্য ফসল বহনের জন্য হাল্লোং সবচেয়ে উপযোগী। তবে এবার এর দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category