পৌনে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ সড়ক সংস্কার প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। গত ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কাজের সাইটে শ্রমিক কিংবা ঠিকাদারের কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় ২৪ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করে এলজিইডি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কাজ শেষের লিখিত পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত, চুক্তি বাতিল ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি পর্যটন ও কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। খানাখন্দের কারণে রোগী পরিবহন, চা-পাতা, আনারস ও লেবু পরিবহনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে আন্দোলন ও অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলে তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, কাজটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘জয় আহমেদ’ নামে এক ব্যক্তিকে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জেনে জানাবেন বলে সংযোগ কেটে দেওয়ার পর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে জামানত বাজেয়াপ্ত ও ব্ল্যাকলিস্টের সুপারিশ করা হবে।
মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। শোকজের উত্তর সন্তোষজনক না হলে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
শ্রীমঙ্গল ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান জানান, জনভোগান্তি কমাতে সাময়িকভাবে রাস্তা মেরামতসহ দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।