মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়েছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।
এর আগে, এদিন দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতের এজলাস থেকে কৌশলে পালিয়ে যান আসামি শরিফুল। ২০২৫ সালেও আদালত থেকে পালিয়েছিলেন তিনি।
ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, কোতোয়ালি থানার মামলায় হাজতি আসামি শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত থেকে পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্য অন্যমনস্ক থাকার সুযোগে আসামি অন্য একটি দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। আসামিকে গ্রেফতার পুলিশ কাজ করছে। এর আগেও একবার তিনি পালিয়েছিলেন।
ডিসি জানান, এ ঘটনায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। সিএমএম আদালতের হাজতের ইনচার্জ এসআই মো. মোরশেদ আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পালানো আসামি সম্পর্কে পুলিশের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নং-১৭(৬)/২৫, ধারা-২২৪ পেনাল কোডের আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (২৮) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।
সিএমএম আদালতের ডিউটি বণ্টন অনুযায়ী কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম আসামিকে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সিএমএম ৭ নম্বর আদালতে হাজির করেন। আসামিকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে আটকানো হয়।
আরও বলা হয়, পরে কনস্টেবল আদালতের বারান্দায় অবস্থান করলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আসামি আদালত থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এজলাসের কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে হ্যান্ডকাফ ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। আসামিকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
এর আগে. ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ঘটনার দিনই হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা।
মামলা দায়েরের পর একই বছরের ১ অক্টোবর ভোরে ফেনী রেলস্টেশন এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। ওই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
আসামি শরিফুল দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদের ছেলে। তিনি ঢাকার খিলগাঁও থানার জিসান হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।







