• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মিষ্টির পদত্যাগের পর সতর্ক এমপি-মন্ত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৫ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি : সংগৃহীত

সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, এটা মন্ত্রী-এমপিদের জন্যও একটা সতর্কবার্তা। সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়— এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে মন্ত্রী-এমপিদেরও ছাড় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং সরকারপ্রধানকে সহযোগিতায় জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে কাজ করতে হবে সবাইকে। একই সঙ্গে মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের অনিয়ম-অপকর্মে জড়িত হবেন না বলে আশা করছে সরকার। এখন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভািবক করা এবং দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে দলীয় নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলবে তারা।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের চার-পাঁচজন এমপির সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। তারা মনে করেন, এটি শুধু মিষ্টির বিরুদ্ধে নয়, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা। একই সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের জন্যও আগাম সতর্কতা।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে রাষ্ট্র চালাতে চান— তার একটি বড় নজির পদত্যাগী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। সরকার পরিচালনায় যারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করবেন না, সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করবেন— তার বা তাদের বিরুদ্ধে সরকারপ্রধান ব্যবস্থা নেবেন, তিনি যে-ই হোন না কেন— যার প্রমাণ আমরা এরই মধ্যে পেয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে মন্ত্রী-উপদেষ্টা-এমপি সবার ওপর নির্দেশনা আছে। সুতরাং সরকারকে বিব্রত করে দল ও সরকারের কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে কোনো ছাড় দেবেন না। দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রতিশ্রুত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তিনি তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এখানে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, তিনি তা নেবেন। এক্ষেত্রে এমপি মিষ্টির ঘটনা সব মন্ত্রী-এমপিসহ আমাদের সবার জন্য একটা সতর্কবার্তা।’

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। দলও এ ব্যাপারে এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসার পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান আরও কঠোর হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাৎক্ষণিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল, দলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সর্বোচ্চ কঠোর হতে পারেন— ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ মহানগরে তিনটি সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা এবং একজন সিটিং এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে তিনি সারা দেশে এই বার্তা দিয়েছেন যে, অপকর্মে জড়ালে কোনো ছাড় নয়। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে, দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়।

জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বললেন, ‘মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকাণ্ডে মিষ্টির নাম এসেছিল, অপরাধী হিসেবে বিচার-তদন্ত কোনো কিছুতেই এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি; কিন্তু তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি এমনই একটা দল যে, কারোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অ্যাকশন নেয়, মিষ্টির ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

‘এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান; সুতরাং যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে— তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবেন। এখানে তার দলীয় পদপদবি দেখা হবে না। আর এটা শুধু বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও এই প্রধানমন্ত্রী নন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কখনোই কোনো অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয় না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার আমলে যখন ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানো হয়েছিল, সেখানে বিএনপির ৭০ শতাংশ নেতাকর্মীকে তখন সাজা ভোগ করতে হয়েছিল। অর্থাৎ দল-মত দেখে বিএনপি ও বিএনপি সরকার চলে না, অপরাধ দেখে ব্যবস্থা নেয়’— যোগ করলেন তিনি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আগামীর সময়কে বলেছেন, বিএনপি ও সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে— অপকর্মে জড়িত হলে কোনো ছাড় নয়। এটা শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ কয়েকটি সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করেছেন, বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মেসেজ দিয়েছেন যে, কেউ যদি সংগঠনবিরোধী এবং দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয় কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে জড়ানোর প্রবণতা থাকে, তাকে কোনো ছাড় দেবেন না। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেবেন’— বলছিলেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ফ্যািসবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। ১২ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেছেন, মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বিএনপি সরকারের একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যে অত্যন্ত কঠোর, এই পদত্যাগ সামগ্রিকভাবে সেই রাজনৈতিক বার্তাকেই প্রতিষ্ঠিত করবে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে যে অভিযোগ-সমালোচনা ছিল, মিষ্টির পদত্যাগ সেই সমালোচনার পাল্টা জবাব হিসেবেও কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category