• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

বাবাকে আর রিকশা চালাতে না দেওয়ার স্বপ্ন চুরমার কাঁদছেন প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দ্রুত নিয়োগপত্র দেয়ার দাবিতে রোববার অবস্থান কর্মসূচি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না তারা। রোববার অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।

খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।

খুলনার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। গত বৃহস্পতিবার ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

বাকি ৬৯ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নিÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যাচাই শেষ করে জানানো হলে তাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একজন মুকুল আহমেদ। তিনি তেরখাদার আজমুর গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি। মুকুল বলেন, তেরখাদায় মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছি। এরপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, সেটা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী সুদীপ মণ্ডল বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পেয়েছি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।

কুমিল্লায় ৫০৮ সুপারিশ, বাদ ৭৭

কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫০৮ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে তারা বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

Amardesh_DPE

বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের শর্তগুলো পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চান্দিনার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেন বাদ দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।

নাঙ্গলকোটের তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

মাসুম বিল্লাহর বাবা দিদার হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। ছেলে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিটা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।

অনিশ্চয়তায় হবিগঞ্জের ৩০ জন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।

প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবির প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে চাকরি নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমি না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।

কুড়িগ্রামে নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভ

কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়াদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে কিংবা শেষ হওয়ার পথে, তাদের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। বঞ্চিত প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

Amardesh_kurigram

লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া রৌমারীর প্রার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি। এই সরকার শুরু থেকেই আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। এজন্যই আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই বাদ পড়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, এটাই সমস্যা হতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, তারা অপেক্ষা করুক, তাদের জন্য ভালো সংবাদ রয়েছে।

গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিতের স্মারকলিপি

সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী।
সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী।

জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ‍সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, তা আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছি।

ফুলছড়িতে বাদ ছয়জন

এদিকে, ফুলছড়িতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৬৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ছয়জন। নিয়োগবঞ্চিত বেলাল হোসেন বলেন, মেধা আর পরিশ্রমে চাকরির শেষ বয়সে এসে এহেন পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করছি।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিএনপি সমর্থকের ছেলেও বাদ

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায়ও ছিল নাম। কিন্তু নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েন তিনি। জাহিদুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স করেন।

তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলায়। তার বাবা আব্দুল আজিজ সিকদার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সদস্য ফরমও কেনেন।

Amardesh_jahid

জাহিদুল বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাইনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই। মেডিকেল পরীক্ষায়ও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।

মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জব্বর খান বলেন, জাহিদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আজিজ সিকদার বিএনপি করেন।

রিকশাচালকের সন্তানের স্বপ্নভঙ্গ

বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক ধাপও পেরিয়েছেন।

রিকশাচালক বাবার সন্তান তাপসের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ।
রিকশাচালক বাবার সন্তান তাপসের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ।

কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জের তাপস সরকার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা তাপসের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আশা যখন পূরণের পথে, তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

স্বপ্নভঙ্গ মেধাবী সোহানের

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মেধাবী সোহান। ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।

জানা গেছে, সোহান রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবা বশির গাজী নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে সোহান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।

Amardesh_DC

সোহান বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটেও কোনো সমস্যা নেই। পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারব। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category