সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম ঘাটঘর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি স্থল পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এর আগে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার,প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থল ও সম্ভাব্য জনসমাগমের স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট এই তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হবে নিরাপত্তার ছক। সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সব স্থানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কতজন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ করবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে সভা হয়েছে, সেখান থেকে তথ্য নিন। পরবর্তী তিনি কোন মন্তব্য না করেই কল কেটে দেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগামী ১ অক্টোবর সকালে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। এরপর ফুলগাজীতে এসে প্রধানমন্ত্রী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে শুরুতে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ ও পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত ৯৬২ দশমিক পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করবেন। পরে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন তিনি।
এরপর দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষদের জন্য সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো-রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে যারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন, তাদের বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য থাকছে আলাদা কার্ড। যারা এই কার্ড পাবেন, তারাই কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটি বিবেচিত হবে হোয়াইট জোন হিসাবে। এই জোনে প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী সড়ক পথে পরশুরাম যাবেন। পরে ফেরার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতি চলছে। জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ দিকে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর সফরের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।