খাগড়াছড়িতে জুম চাষের প্রধান ফসল ধান কাটা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হওয়ায় এবার জুমের ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জুমচাষিরা। জুমের ফলন বাড়াতে কৃষি বিভাগও নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খাগড়াছড়ি জেলায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে প্রচলিত এ চাষপদ্ধতিতে ধান প্রধান ফসল হলেও এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল চাষ করা হয়।
জুমচাষিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার জুমের ফসল ভালো হয়েছে। জুমে উৎপাদিত মারফা, ভুট্টা, বরবটি, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজি এরইমধ্যে বাজারে উঠেছে। সেপ্টেম্বর থেকে জুমের ধান পাকতে শুরু করেছে। এখন পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। ধান কাটার পর শুরু হবে আদা ও হলুদ তোলার কাজ।
খাগড়াছড়ি সদরের আলুটিলা, সীমানাপাড়া, ঠাকুরছড়া ও বড়পাড়া এলাকায় এবার অনেক পরিবার জুম চাষ করেছে। তবে এসব জুমচাষির অভিযোগ, তারা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, জুম চাষ লাভজনক না হওয়ায় দিন দিন এ চাষ কমে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে, যেখানে সমতল জমি নেই বা খুব কম, সেসব এলাকায় জুম চাষ বেশি হচ্ছে।তিনি আরও জানালেন, জুমচাষিদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ কাজ করছে। তাদের বীজ এবং উন্নত ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুম চাষের উপযোগী, খরা সহনশীল এবং কম সেচে চাষ করা যায় এমন ধানের জাত উদ্ভাবনেও কাজ করছে কৃষি বিভাগ।