বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অর্থ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে ‘আলোয় আগামীর’ নামে একটি নতুন সামাজিক উদ্যোগের উদ্বোধন করেছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) মানিকগঞ্জ। উদ্যোগটির আওতায় নির্বাচিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার ও ব্যাটারি-ভিত্তিক হাইব্রিড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নারায়নগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় জামিয়া ফারুকিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় সোলার ও ব্যাটারি-ভিত্তিক একটি হাইব্রিড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনী কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেসিআই মানিকগঞ্জের ২০২৬ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট সাবরিনা পারভীন খান, ইমিডিয়েট পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট (আইপিএলপি) আবু সুফিয়ান নিলাভ, লোকাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) আরিফ হোসাইন এবং লোকাল ট্রেনিং কমিশনার ও প্রকল্প চেয়ারম্যান আজমাইন হাবিব।
উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা ও বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও এই ‘আলোয় আগামীর’ প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সৃষ্ট আর্থিক সাশ্রয় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশপাশি এখান থেকে সাশ্রয়কৃত অর্থের হিসাব করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রকল্পের বিষয়ে জেসিআই মানিকগঞ্জের ২০২৬ লোকাল প্রেসিডেন্ট সাবরিনা পারভীন খান বলেন, ‘আলোয় আগামীর’ শুধু একটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রকল্প নয়, বরং টেকসইভাবে সামাজিক প্রভাব তৈরির একটি উদ্যোগ। আমাদের এই প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১, ৪, ৭, ৮, ১৩ ও ১৭ নম্বর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু কার্যক্রম এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন।
ইমিডিয়েট পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট আবু সুফিয়ান নিলাভ বলেন, সাধারণত কোনো সমস্যার সমাধানে এককালীন সহায়তার কথা ভাবা হয়। ‘আলোয় আগামীর’ সেই ধারণার বাইরে গিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মডেল তৈরির চেষ্টা করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে যে সাশ্রয় তৈরি হবে, সেটিকে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা হলে একই উদ্যোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক মূল্য তৈরি করা সম্ভব।
লোকাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আরিফ হোসাইন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিক্ষা দুটিই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ‘আলোয় আগামীর’ মাধ্যমে এ দুটি বিষয়কে একই উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রভাব যেন বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি বিনিয়োগ যেন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে, সেই লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও লোকাল ট্রেনিং কমিশনার আজমাইন হাবিব বলেন, প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিমাপযোগ্যতা। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট সাশ্রয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে প্রকল্পটির আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব আরও স্বচ্ছভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণ নেতৃত্বের একটি বৈশ্বিক সংগঠন। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে অবস্থিত। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সদস্য সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক উদ্যোগ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে জেসিআই বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে জেসিআইয়ের ৪০টিরও বেশি লোকাল চ্যাপ্টার সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে জেসিআই মানিকগঞ্জ যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।