• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ অক্টোবর) স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

৬০ লাখের মঞ্চে ডিপিএল, ড্রাফটে ক্রিকেটারদের দাম!

স্পোর্টস ডেস্ক / ২২ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকা লিগে এক ক্লিকেই বদলে যাবে ঠিকানা

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ক্রিকেটবাজারে আবারও বাজতে পারে পুরোনো ঘণ্টা। তবে এবার সেই বাজারে শুধু ব্যাট-বলের পারফরম্যান্স নয়, আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ক্রিকেটারের ‘দাম’।

একদিকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার সম্ভাব্য ‘এ+’ ক্যাটাগরি। অন্যদিকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ই’ ক্যাটাগরি। মাঝখানে আরও চার ধাপ। ২০২৭ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল যদি আলোচনায় থাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তাহলে ক্রিকেটারদের ঠিকানা বদলের সঙ্গে বদলাবে তাদের পারিশ্রমিকের অঙ্কও!

আর এই পুরো প্রক্রিয়ার নাম-‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’।

ঢাকার ক্রিকেটে এই পদ্ধতি একেবারে নতুন নয়। অতীতে ড্রাফটের মাধ্যমে ক্রিকেটার বেছে নিয়েছে ক্লাবগুলো। ২০১৮ ও ২০১৯ মৌসুমেও প্লেয়ার্স বাই চয়েজ ব্যবস্থার ব্যবহার হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরাসরি দলবদলই হয়ে ওঠে ডিপিএলের নিয়মিত চিত্র। এবার আবার সেই ড্রাফট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার আলোচনা শুরু হয়েছে।

কিন্তু এবারের গল্পটা শুধু ‘কে কোন দলে যাবেন’-এতটুকুতে থেমে নেই।

গল্পের আসল উত্তেজনা টাকার অঙ্কে। দেশের ক্রিকেটারদের পেশাদার সংস্থা কোয়াবের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক আলোচনায় যে কাঠামোর কথা এসেছে, সেখানে সবচেয়ে ওপরের ধাপে থাকা ‘এ+’ ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক হতে পারে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। এরপর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ, ‘বি’তে ৩০ থেকে ৪০ লাখ, ‘সি’তে ২০ থেকে ৩০ লাখ এবং ‘ডি’তে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সবচেয়ে নিচের ‘ই’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণের আলোচনা রয়েছে।

তবে এখানেই রয়েছে বড় একটি ‘যদি’! এই অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। আলোচনার টেবিলে থাকা সম্ভাব্য কাঠামো এটি। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটারদের ক্যাটাগরি কিংবা পারিশ্রমিক-দুটিই বদলে যেতে পারে।

তবু সংখ্যাগুলোই বলে দিচ্ছে, এবার প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ডিপিএলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

কারণ কয়েক বছর আগেও ডিপিএলের ড্রাফটে শীর্ষ ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক ছিল ৩০-৩৫ লাখ টাকার আশপাশে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ছিল ৩০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে শীর্ষ পাঁচ ‘আইকন’ ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকা করে।

আর এবার সেই শীর্ষ সীমাই সম্ভাব্যভাবে উঠে যাচ্ছে ৬০ লাখে। ডিপিএলের ক্রিকেটবাজারে শুধু পদ্ধতি বদলানোর আলোচনা হচ্ছে না, বদলে যেতে পারে টাকার ভাষাটাও।

কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ল? -উত্তরটা লুকিয়ে আছে ডিপিএলের দলবদলের পুরোনো চিত্রে।

১২ দলের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিবছরই কিছু ক্লাব বড় বাজেট নিয়ে শক্তিশালী দল গড়ার চেষ্টা করে। আবার কিছু ক্লাব তুলনামূলক সীমিত সামর্থ্য নিয়ে দল সাজায়। ফলে দলগুলোর শক্তির ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে টানাপোড়েন এবং পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরোনো আলোচনার অংশ।

প্লেয়ার্স বাই চয়েজ সেই অঙ্কটা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি উপায় হতে পারে। ক্রিকেটারের একটা ক্যাটাগরি থাকবে। সেই ক্যাটাগরির জন্য থাকবে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের সীমা। এরপর ক্লাবের পছন্দ অনুযায়ী ক্রিকেটার নির্বাচন হবে। এবার হয়তো ক্রিকেটারের ফোনে শুধু ক্লাবের প্রস্তাব আসবে না; অপেক্ষা থাকবে ড্রাফটের মঞ্চে নিজের নাম ওঠার।

একেকটি নাম উঠবে। একেকটি ক্লাব পছন্দ জানাবে। আর সেই সঙ্গে নির্ধারিত থাকবে ক্রিকেটারের মূল্য!

তবে এই পদ্ধতির অন্য একটি দিকও আছে। সরাসরি দলবদলের বাজারে ক্রিকেটার ও ক্লাবের মধ্যে যে দর-কষাকষির সুযোগ থাকে, ড্রাফট ব্যবস্থায় সেটি সীমিত হতে পারে। অতীতে ডিপিএলের ড্রাফট নিয়ে ক্রিকেটারদের এমন উদ্বেগের কথাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

তাই ৬০ লাখের প্রশ্নের সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-এই টাকা শুধু কাগজে থাকবে, নাকি ক্রিকেটারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও সময়মতো পৌঁছাবে?

কারণ ডিপিএলে পারিশ্রমিকের অঙ্ক বড় হওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই পারিশ্রমিকের নিশ্চয়তাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ড্রাফট ব্যবস্থায় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ধাপে ধাপে পরিশোধের কাঠামোও ছিল। ২০১৮ সালের ব্যবস্থায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৫০ শতাংশ, প্রতিযোগিতা চলাকালে ২৫ শতাংশ এবং শেষে বাকি ২৫ শতাংশ দেওয়ার নিয়ম ছিল।

২০২৭-এর সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থায় তাই শুধু ‘কে কত দামে বিক্রি হলেন’-এই উত্তেজনা দিয়ে গল্প শেষ হওয়ার কথা নয়।

বরং আসল পরীক্ষা হবে আরও পরে। ড্রাফটে যে ক্রিকেটারের মূল্য ৬০ লাখ নির্ধারিত হবে, তিনি কি পুরো অর্থ পাবেন? ৩০ লাখের ক্যাটাগরির ক্রিকেটারের পাওনা কি সময়মতো মিটবে? আর ১০ লাখের ক্রিকেটারও কি একইভাবে চুক্তির নিশ্চয়তা পাবেন?

সেখানেই ডিপিএলের নতুন নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক। প্রথম অঙ্কে থাকবে ড্রাফট। দ্বিতীয় অঙ্কে পারিশ্রমিক।

আর শেষ অঙ্কের প্রশ্ন একটাই-ডিপিএলের ক্রিকেটবাজারে এবার কি শুধু ক্রিকেটারের দাম বাড়বে, নাকি বাড়বে সেই দামের নিশ্চয়তাও?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category