ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মারা যায়নি- শুরুতে এমন দাবি করা হলেও এবার আগুনের আতঙ্কে দুজনের মৃত্যুর কথা বলেছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
তবে তিনি দাবি করেছেন, বাকি দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পদদলিত বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে কেউ মারা যাননি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, গণমাধ্যমে ছয়জনের মৃত্যুর যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। মৃতের তালিকায় জাহানারা বেগমের নাম থাকলেও তিনি জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর কীভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধানে সময় দিতে হবে।
তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), তারাকান্দার কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০) রয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
স্বজনদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপদে বের হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পদদলিত হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর রাত ১১ টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬ জনেন মৃত্যুর বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় হতাহতের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসে। মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।