তিনি বলেন, যতই বুলি আওড়াক না কেন, আর কোনোদিন পতিত স্বৈরাচার এদেশে ফিরে আসবে না। তবে সরকারকে অনুরোধ জানাব, তাদের ফিরিয়ে এনে অতিদ্রুত বিচার করতে হবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে স্বৈরাচার এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। পৃথিবীর ইতিহাস এর বাস্তব সাক্ষী। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরাস্থ সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে থানা ও ওয়ার্ড কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অর্জিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি কাগজের দলিল নয়, এটি লাখো মানুষের ত্যাগ, রক্ত এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে নিয়ে অতিদ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা শহীদ ও রাজপথের লড়াকু তরুণদের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল হবে। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা এই বিশ্বাসঘাতকতা বরদাস্ত করব না।
বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অতীতের ব্যর্থ লোকদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, যাদের অনেকের নামে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম তৈরি হচ্ছে এবং দেশের জনগণ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের এই পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নিউক্লিয়াসগুলো সঠিক পথে থাকলে সংগঠন কখনো পথ হারাবে না। তাই সাংগঠনিক, দ্বীনি ও রাজনৈতিক যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ নুরুল আমিন এবং নগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষকে আল্লাহ তায়ালা খলিফা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। আর খলিফার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী হওয়া। আমাদের চেষ্টা করতে হবে ইসলামী জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিচরণ করার এবং অন্তত একটি শাখায় হলেও বিশদ জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান এলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন এবং নগর কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন।