• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

বিশ্ববাজারে জ্বা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ব্রেকিং নিউজ / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জর্ডানে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ দশমিক ৫৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মে মাসের শেষের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরেও উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি না আসার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে মার্কিন শক্তি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) চলতি ও আগামী বছরের তেলের মূল্যের পূর্বাভাস সংশোধন করে তা বৃদ্ধি করেছে। সংস্থাটি জানায়, তারা এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯১ ডলার আশা করছে, যা তাদের পূর্ববর্তী অনুমানের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।

একই সঙ্গে চলতি বছরে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের গড় মূল্য ব্যারেল প্রতি ৮৪ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। তবে ইআইএর এই প্রতিবেদনটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনা শুরুর আগে ৩ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

জর্ডানে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের রাতের হামলায় একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

হামলার বিষয়ে সরাসরি অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে বিমানগুলোকে মেরামত করে আবারও কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন, কারণ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি তাদের ছিল না।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ‘ওয়ার্থগ’ নামে পরিচিত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট বিমানও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

হামলায় কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদ বিশ্লেষণ

এর আগে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি বলে জানায় জর্ডান।

৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এর আগে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল সিবিএস।

ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর কথা জানানোর পর। এর আগে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে দাবি করে ওয়াশিংটন।

পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা আটটি ট্যাঙ্কার ও দুটি যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সৌদি আরবেও হুতিদের হামলা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলাকে কেন্দ্র করেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন হুতি-বিরোধী জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার হুতিরা দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের তিনটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এটি হুতিদের টানা দ্বিতীয় দিনের হামলা। মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুতিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি তেল স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হুতিরা দাবি করেছে, এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দিনের শুরুতে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে।

আরব সংস্কৃতি জানুন
হুতিদের পেছনে ইরানের হাত দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

হুতিদের হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত নিবিড় নজর রাখছে।

রুবিওর অভিযোগ, হুতিরা বিভিন্ন দিক থেকে ইরানের প্রতিনিধি বা প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে এবং চলমান সংঘাত বৃদ্ধির পেছনে তেহরানের ভূমিকা রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের ‘ইয়েমেনের স্বাধীন পক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাকাই বলেন, হুতিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। তারা কারও কাছ থেকে নির্দেশ নেয় না এবং কারও প্রক্সি হিসেবেও কাজ করে না।

নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষের আশা ট্রাম্পের

চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরেই’ সংঘাতের অবসান হতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘দুর্বল’ নেতৃত্ব দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদের মধ্যেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং ইয়েমেন-সৌদি আরব সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category