ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসের বর্তমান অবস্থাটি সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়, এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দূতাবাসটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি, কারণ স্থানীয় কর্মীরা তুরস্কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, উভয় পক্ষই একমত যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দূতাবাসটি বন্ধ রাখা উচিত।
২০২৩ সালের শেষের দিকে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পর লায়নের এই সফরটি ছিল কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার প্রথম সফর। ২০২২-২০২৩ সালে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। আঙ্কারা শুরুতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছিল; পরবর্তীতে তারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এবং ২০২৪ সালে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সিরিয়া ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কেবল কথার লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আরও বেড়েছে। গত মাসে ইসরায়েল উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়, যা তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইসরায়েলের দাবি ছিল, তুরস্ক ওই ঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা ইসরায়েলের আকাশপথে অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারত।
আঙ্কারা সাধারণত মনে করে, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে পুনরায় আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা যুক্তি দেন, অন্যান্য দলের সাথে ভিন্ন কোনো জোট গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকার টিকে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন এই অঞ্চলের বিষয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তুর্কি গণমাধ্যমে ইসরায়েল-বিরোধী উসকানি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।







