জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের কেউ হোক কিংবা অন্য যেকোনো দলের, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখানোর প্রয়োজন নেই।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনোয়ারায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত এনসিপি নেতা দেলোয়ার হোসেনকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, হামলায় গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেন এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তাঁর ওপর হামলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সাধারণ নাগরিককে এভাবে হামলার শিকার হয়ে জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হতো না।
এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন সূচকে চরম অবনতি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মারামারি ও দখলের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনকি গ্রামীণ এলাকায় মহিষ চরানোর মতো সাধারণ বিষয় নিয়েও চাঁদা দাবি করার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির দ্রুত সুরাহা করতে হবে। দেলোয়ার হোসেনের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেলোয়ারের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জোবাইরুল আলম মানিক, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির নেতা মীর শোয়াইব, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত, জুলাই মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম শাহেদসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে একটি মার্কেটের চলাচলের রাস্তা বা ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ইজারাদারপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে এনসিপির আনোয়ারা উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত সাতজন আহত হন।